
সোহেল রানা রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃ- মহান বিজয় দিবস বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসাহ-উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে উদ্যাপন করে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ। কর্মসূচী সমূহের মধ্যে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে কুমারপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও দেশাত্মবোধক গান প্রচার করা হয়।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল এঁর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহ্সানুল হক পিন্টু এঁর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি ডা. তবিবুর রহমান শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আসলাম সরকার, দপ্তর সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম বুলবুল, বোয়ালিয়া (পূর্ব) থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, নগর শ্রমিক লীগ সাধারণ সম্পাদক আকতার আলী, জেলা শ্রমিক লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু বাক্কার সিদ্দিক, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আজ ১৬ ডিসেম্বরে আমরা বিজয় লাভ করেছিলাম। ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহের মধ্যে দিয়ে আমরা মহান বিজয় দিবস পালন করলাম। মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭মার্চে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন তারই প্রেক্ষিতে সংঘটিত হয়েছিলো মহান মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর দেখা সেই স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আজ তাঁরই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের উত্তোরত্তর উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে। এই অগ্রযাত্রাকে কোন অপশক্তি ব্যাহত করতে পারবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদদের আত্মত্যাগ সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নত সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।
বক্তারা আরো বলেন, যারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিরোধীতা করেছিলো, যারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিলো এবং তারই ধারাবাহিকতায় ঐ বছরেরই ৩নভেম্বর কারাভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছিলো, এই বাংলার মাটিতে তাদের বিচার হয়েছে। পলাতক আসামীদের দেশে ফিরিয়ে এনে সেই বিচারের রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গিকার ব্যক্ত করছি। এখন তাদের উত্তরসূরীরা তথা বিএনপি-জামায়াত এই দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, অপরাজনীতি ও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। তাদেরকে যতক্ষণ না পর্যন্ত এই বাংলার মাটি থেকে সমূলে উৎখাত করছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাজপথে থেকে এই অপশক্তির মোকাবিলা করবো। যারা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করতে চায়, দেশ ও জনগণের ক্ষতি করতে চায়, তারা কোনদিনও সফল হতে পারবে না। সেজন্য আপনাদের সর্বক্ষণ সজাগ থাকতে হবে। আমাদের আদর্শের জায়গা কখনও পিছপা হবো না। আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে রাজপথে থেকে জনগণকে সাথে নিয়ে এই অপশক্তির মোকাবিলা করবো।
কর্মসূচী সমূহে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জিয়া হাসান আজাদ হিমেল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ কবির সেন্টু, শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ওমর শরীফ রাজিব, শ্রম সম্পাদক আব্দুস সোহেল, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক কামারউল্লাহ সরকার কামাল, সদস্য মুশফিকুর রহমান হাসনাত, নজরুল ইসলাম তোতা, এ্যাড. শামসুন্নাহার মুক্তি, আতিকুর রহমান কালু, হাফিজুর রহমান বাবু, আব্দুস সালাম, এ্যাড. শামীমা আখতারী, বাদশা শেখ, মোখলেশুর রহমান কচি, কে এম জুয়েল জামান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সদস্য ডা: আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা, মতিহার থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, নগর শ্রমিক লীগ মাহাবুবুল আলম, জেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি আব্দুল্লাহ খান, নগর কৃষক লীগ সভাপতি রহমতউল্লাহ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সাকির হোসেন বাবু, নগর মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কানিজ ফাতেমা মিতু, নগর যুব মহিলা লীগ সভাপতি এ্যাড. ইসমত আরা, সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন নিলু, নগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ডা. সিরাজুম মুবিন সবুজ প্রমুখ।