
এ,এস,মামুন স্টাফ রিপোর্টারঃ-
বরিশালের গৌরনদী উপজেলা ভূমি অফিস ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সরকারি রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড পরিমাণ সাফল্য অর্জন করেছে। ভূমি উন্নয়ন কর, ভিপি লীজ মানি, চান্দিনা ভিটি নবায়ন, মোবাইল কোর্টে অর্থদণ্ড এবং অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সেবার ফি মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। এ অর্জনকে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ডিজিটাল সেবার ইতিবাচক ফল হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
গৌরনদী উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ২১ হাজার ২২৫ টাকা। এর মধ্যে সাধারণ শ্রেণিতে আদায়ের হার ১৫৫ শতাংশ এবং সংস্থার ক্ষেত্রে ১০৭ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।
এছাড়া ভিপি লীজ মানি থেকে আদায় হয়েছে ১৯ লাখ ২৭ হাজার ২২ টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০১.২২ শতাংশ। চান্দিনা ভিটি নবায়ন বাবদ আদায় হয়েছে ৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০২ শতাংশ। একই সময়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অর্থদণ্ড হিসেবে আদায় হয়েছে ৮ লাখ ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা।
এছাড়াও অনলাইনে পরিশোধিত নামজারি ফি, খতিয়ান সংশোধন ফি, খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির ফি এবং অন্যান্য সরকারি ফি বিবেচনায় নিলে মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান বলেন,
“সরকারি রাজস্ব আদায়ের এই সাফল্য শুধু ভূমি অফিসের নয়, এটি গৌরনদীবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতার ফল। আমরা ভূমি সেবাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। অনলাইনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণের ফলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই বিভিন্ন ফি পরিশোধ ও ভূমি-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। ভবিষ্যতেও দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সবাইকে সময়মতো ভূমি উন্নয়ন কর ও অন্যান্য সরকারি ফি পরিশোধ করে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমি প্রশাসনকে আধুনিক, সেবামুখী ও মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।”
উল্লেখ্য, এ অর্জনের জন্য গৌরনদী উপজেলা ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে এক শুভেচ্ছা বার্তায় গৌরনদী বাসীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত রাজস্ব আদায় কার্যক্রম, ডিজিটাল ভূমি সেবার সম্প্রসারণ এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলেই চলতি অর্থবছরে এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।