
মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী বিভাগীয় প্রধানঃ-
রাজশাহীর পবা উপজেলায় ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এক ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান। গত বছরের ২৫ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর উপজেলার বড়গাছির ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দীন এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ভুয়া প্রকল্পে অর্থ লোপাটের ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ২৪ এপ্রিল তজিবুর রহমান, শামসুল ইসলাম ও সোহেল রানার করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল। এতে বলা হয়, দাদপুর গফুরের বাড়ি থেকে বড়পুকুর পর্যন্ত রাস্তার কাজ দেখিয়ে ২ লাখ টাকা, দাদপুর জোনাবের বাড়ি থেকে মুকুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা দেখিয়ে ২ লাখ টাকা, বাগিচাপাড়া ময়নার বাড়ি থেকে শহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা দেখিয়ে ২ লাখ টাকা, দাদপুর চকপাড়া মিলনের বাড়ি থেকে শহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় সিসি ঢালাইয়ের নামে ২ লাখ টাকা, বাগিচাপাড়া আসাদুলের বাড়ি থেকে ইদ্রিসের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় সিসি ঢালাই দেখিয়ে ২ লাখ টাকা এবং দাদপুর দাখিল মাদ্রাসায় বেঞ্চ ও ফ্যান সরবরাহের নামে ৫২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, বীরগোয়ালিয়া গ্রামের বাবুলের বাড়ি থেকে দিপু মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ উল্লেখ রয়েছে। এতে ৭ লাখ ৫ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়। রোববার সকালে গ্রামটিতে গিয়ে দিপু মাস্টার নামে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। গ্রামের বাসিন্দা আবদুল আজিজ জানান, এ গ্রামে দিপু মাস্টার নামে কেউ নেই। বীরগোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও বড়গাছি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গাজিয়ার রহমান জানান, এ গ্রামে রাস্তায় মাটি ভরাটের কোনো কাজ হয়নি। ৭ লাখ টাকার মাটি ফেললে রাস্তা এ অবস্থায় থাকে!
অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, এ ইউনিয়নে গত বছরের ২৪ মার্চ ১৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা, ২ জুন ১৬ হাজার ৮৪ হাজার টাকা এবং ১৮ নভেম্বর ১০ লাখ ১০ হাজার ৪০০ টাকা বরাদ্দ এসেছে। কোথাও নামসর্বস্ব মাটি ফেলে আবার কোথাও কোনো কাজ না করে বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। এভাবে কাগুজে প্রকল্প দেখিয়ে ৪৫ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা লুটপাট হয়েছে।
জানা গেছে, হেলাল উদ্দীন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। গত বছরের ২৫ জানুয়ারি তিনি পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। এরপর থেকে তিনি নামসর্বস্ব প্রকল্প দেখিয়ে টাকা লুটপাট করে আসছেন বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আমার প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয় না। আমি সব কাজ সুন্দরভাবে করি। ভুয়া প্রকল্প যদি থাকে সেটা আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে হতে পারে।’
পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনুল আবেদীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।