
মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী বিভাগীয় প্রধানঃ-
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি সাবেক চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে জন্ম গ্রহন করেছিলেন। বাংলার রাখাল রাজা বাংলাদেশের উন্নয়নের রুপকার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক শহীদ প্রেসডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন মেজর ছিলেন সে সময়ে ১৯৬০ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বিয়ে হয়েছিলো। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিপক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছিলেন। সে সময়ে বেগম জিয়ার বয়স হয়েছিলো মাত্র বিশ বছর। সে সময় থেকেই তিনি স্ট্রাগল করা শুরু করেন বলে পবার পারিলা ইউনিয়ন এলাকাবাসীর আয়োজনে বুধবার বিকেলে রামচন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুরের বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সেনা সদস্য যাদের বাড়িতে আছে, আর সেই সদস্য যদি যুদ্ধে যায় তাহলে ঐ পরিবারের সদস্যদের অবস্থাটা কি হয় তা ঐ পরিবারের সদস্যরাই জানেন। এরপর ১৯৭১ সালে শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে অংশগ্রহন ও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে বাঁচাতে মেজর জিয়াউর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। এরপর তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। একজন সামরিক সদস্য যদি তার দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তাহলে সে দেশ তাঁকে কি বলে আখ্যাদেয় তা সবাই জানে। সে অবস্থাতেই বেগম জিয়া পাকিস্তান থেকে জাহাজে করে চট্টগ্রামে চলে আসেন। সেখান থেকে তিনি তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছালে পাকিস্তানী বাহিনীর নিকট তাঁরা আটক হন।
এসময়ে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানী এক অফিসারকে বলেছিলেন আমি জানি আমার স্ত্রী এবং সন্তানেরা আপনাদের কাছে আটক আছে। যদি তাদের কোন অমর্যাদা হয় তাহলে আপনাদেরকে ক্ষমা করা হবেনা বলে হঁশিয়ারী দেন। বেগম জিয়া পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নিকট আটক অবস্থা থেকে তিনি দৃঢ়চেতা হিসেবে নিজেকে তৈরী করেছিলেন। এরপর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে শহীদ হওয়ার পরে তিনি বিএনপির হাল ধরেন এবং স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। সেইসাথে অন্যান্য দল বেইমানী ও মেনাফেকী করলেও তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে একাই নেতৃত্ব দিয়ে এরশাদের পতন ঘটান। এরপর ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যেমে তিনি সংসদ সদস্য নির্চাচিত হন এবং সেইসাথে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন।
জীবনদশায় বেগম জিয়া সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁকে ওয়ান-ইলেভেন এর সময়ে সে সময়ের সরকার দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি না যাওয়ায় তাঁর দুই সন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে আটক করে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। সেই নির্যাতনের ভিডিও ও অডিও তাঁকে দেখানো ও শোনানো হতো বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, এত কিছুর পরেও যখন বেগম জিয়া দেশ ছেড়ে যেতে চাননি তখন তাঁকে বলা হয়েছিলো। সন্তান আগে না দেশ আগে। তাঁর উত্তরে তিনি বলেছিলেন আমার সন্তান শুধু দুইটি নয়। এদেশের প্রতিটি মানুষ আমার সন্তান। এই সন্তানদের ছেড়ে আমি কোথাও যাবনা বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। কোন প্রকার অন্যায়ের সাথে আপোস না করায় দেশবাসী তাঁকে আপোসহীন নেত্রী হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলো।
মিলন বলেন, পতিত সরকারের খুনি ও অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পূর্ন রাজনৈতিকভাবে, হিংসাবসবতী হয়ে বেগম জিয়ার নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছিলো। সেই মামলায় ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যেমে ফরমায়েশি রায় দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিলো। শুধু তাইনয় একটি নির্জন কারাগারে তাঁকে রাখা হয়েছিলো। অসুস্থ হলে তাঁকে চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি। করোনার সময়ে তাঁকে হাসাপাতালে নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু বেগম জিয়ার ডাক্তারদের চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি সে সময়ে। বিদেশে নিয়ে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বার বার ঐ ফ্যাসিস্ট সরকারের নিকট আবেদন করলেও তারা সে আবেদনে সারা দেয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, বেগম জিয়াকে জেল খানায় তিলে তিলে মেরে ফেলার জন্য খাবারের সাথে স্লোপয়জোনিং করেছিলো। এতেও খুনি হাসিনা ক্ষ্যান্ত হয়নি। তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দিয়েছিলো। তাঁর বাড়ি বুল্ডরোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। সে সময়ে তিনি বলেছিলেন আমার উপরে এই ধরনের নির্যাতন আল্লাহ সহ্য করবেনা। তিনি ইমানের শহিদ আল্লাহর নিকট বিচার দিয়েছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ এমন করে দেখিয়েছে খুনি হাসিনা এখন শুধু তার বাড়িঘর ও সম্পদ নয়, এ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আর এটা ঘটেছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। সে সময়ে খুনি হাসিনা নিজের ক্ষমতাকে ধরে রাখতে ছাত্র-জনতা ও শিশুসহ প্রায় দেড় হাজারের বেশী খুন করেছে। বিশ হাজারের বেশী মানুষকে আহত করেছিলো। এখনো অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
মিলন বলেন, বেগম জিয়া ক্ষমতায় আসার পরে দেশের সংস্কার কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা রোধ করে পার্লামেন্ট সরকার ব্যবস্থা চালু করেন। সে সময় থেকেই তিনি নারী শিক্ষা ও নারীদের স্বাবলম্বী করতে অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। নারীদের ক্ষমতায়িত করতে তিনি অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছিরেন। শুধু তাইনয় তিনি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ে অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছিলেন। সেই মহিয়সী মানবতার মা অসুস্থ হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবাইকে কাঁদিয়ে ৩০ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে চলে গেছেন।তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যু সবাইকে একতাবদ্ধ হতে শিখিয়ে গেছে। কারণ তাঁর জানাযায় বিশ্বের ২৬টি রাষ্ট্র থেকে নেতৃবৃন্দ এসেছিলেন। আর জানাযায় কত লোক হয়েছিলো তা কেউ এখন পর্যন্ত পরিমাপ করে বলতে পারেনি। আর ভবিষ্যতের পারবেনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরে বিশ্বে এমন কোন নেতার জানাযায় এত লোক হয়নি বলে জানান তিনি। তিনি বেগম জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, জুলাই যুদ্ধে সকল শহীদ ও দীর্ঘ সতের বছরে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সকল মৃত মুসলিম ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সেইসাথে যারা অসুস্থ আছেন তাদের সুস্থতা কামনা করে আসছে নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। বক্তব্য শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রেজাউল করিম। সদস্য সচিব মোখলেসুর রহমানের সঞ্চালনায় মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌর সাবেক মেয়র ও নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মকবুল হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্য ও পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাবি ক্রপ সান্সেস এনড টেক বিভাগের উপরেষ্টিটার আব্দুল গাফ্ফার, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাইজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সোহেল রানা, সদস্য মাজদার রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান লিটন, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত, পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান, নওহাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রহমানসহ বিএনপি অঙ্গ ও সহোযাগি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ