
মোমিন ইসলাম সরকার,দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে কনটেন্ট তৈরি করা বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটি সাধারণ ও জনপ্রিয় কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। বেশি ভিউ, ফলোয়ার এবং সেখান থেকে আয় করার আশায় অনেকেই কনটেন্ট তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। তবে এর পাশাপাশি কিশোরীদের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা কিছু ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক পরিস্থিতিরও সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (BBS) প্রকাশিত Population and Housing Census 2022 অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৫৫ শতাংশ কিশোর-কিশোরী স্মার্টফোন ব্যবহার করে। এর মধ্যে কিশোরীর হার প্রায় ৪৫ শতাংশ। ফলে উঠতি বয়সী মেয়েদের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে দ্রুত পরিচিতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ক্রমেই বাড়ছে।
এই বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি একটি সচেতনতামূলক লেখা প্রকাশ করেছেন দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক হরিশ্চন্দ্র রায়। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন,
“দিনাজপুরের একজন সমাজকর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শ্রদ্ধাভাজন বাবু মাধব চন্দ্র রায় উঠতি বয়সী মেয়েদের মধ্যে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে ভাইরাল হওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং এর সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে কিছু লেখার অনুরোধ করেছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে আগে খুব বেশি ভাবিনি। কিন্তু সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকজন কিশোরী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের দ্রুত পরিচিতি পাওয়া এবং পরে দুঃখজনক পরিণতির খবর শুনে বিষয়টি নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়েছি।
কনটেন্ট তৈরি করা, বেশি ভিউ পাওয়া এবং সেখান থেকে আয় করা এগুলো নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র। এর সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিয়ে আপত্তির কিছু নেই। বরং সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এটি তরুণদের জন্য একটি ইতিবাচক সুযোগ হতে পারে।
তবে সম্প্রতি এর একটি অন্ধকার দিকও সামনে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানা গেছে, গতকাল (১১ মার্চ) পুজা রায় নামে ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এর আগে ডলি রানী এবং গত ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখে নিভি রায় নামে আরও একজন কিশোরীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। এ ধরনের সংবাদ আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করে। এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ভিউ, ফলোয়ার এবং আয়ের প্রতিযোগিতায় কেউ কেউ ধীরে ধীরে নিজের ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ এবং সামাজিক সীমারেখা হারিয়ে ফেলছে। উঠতি বয়সের মেয়েরা অনেক সময় অতিরিক্ত আধুনিকতার নামে নিজের অজান্তেই ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজে নতুন নতুন বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সেই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি বা প্রতারক চক্র আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরি করে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে। একসময় অনেকেই এমন ফাঁদে আটকে পড়ে, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। মানসিক চাপ, সামাজিক লজ্জা ও ভয় সব মিলিয়ে কেউ কেউ চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনা আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে।
অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, আপনার সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখুন, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন এবং তারা অনলাইনে কী করছে সে বিষয়ে সচেতন থাকুন।
আর উঠতি বয়সী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রতি একটি অনুরোধ, সময় থাকতে সাবধান হোন। এমন কিছু করবেন না, যা ভবিষ্যতে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি করতে পারে”।
এদিকে বোদা উপজেলার দইখাতা নাজিরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফনিভূষণ রায় এ বিষয়ে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন সচেতনতামূলক লিখনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। এটি নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিভাবকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।