
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী,নড়াইল প্রতিনিধিঃ-
পবিত্র মাহে রমজানকে ঘিরে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলা ও নড়াগাতী এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজারে বসেছে বাহারি ইফতারির পসরা। জিলাপি, বেগুনি, পিয়াজু, ছোলা, হালিম, চপসহ নানা মুখরোচক খাবার রোজাদারদের আকৃষ্ট করলেও এর বড় একটি অংশ তৈরি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক দোকানে খোলা জায়গায় ধুলাবালির মধ্যে ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ব্যবহৃত হচ্ছে একই তেল বারবার, যা কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত। অনেক বিক্রেতা খাবার ঢেকে রাখার ন্যূনতম ব্যবস্থা না রেখেই বিক্রি করছেন। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে নিম্নমানের ও ভেজাল উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
সচেতন ক্রেতারা জানান, বাহারি রং ও কম দামের প্রলোভনে না জেনে-না বুঝেই অনেক রোজাদার এসব খাবার কিনছেন। ফলে ডায়রিয়া, খাদ্যে বিষক্রিয়া, পেটের পীড়া ও গ্যাস্ট্রিকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘসময় খোলা পরিবেশে রাখা খাবার এবং বারবার ব্যবহৃত তেলে ভাজা ইফতারি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
রোজাদারদের উদ্দেশ্যে সচেতন মহল পরামর্শ দিয়েছেন—ইফতারি কেনার সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, তেলের মান ও খাবার সংরক্ষণের অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার। প্রয়োজনে ঘরে তৈরি খাবারকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পবিত্র রমজানে রোজা রাখার পাশাপাশি সুস্থতা রক্ষা করাও জরুরি। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সচেতনতার দায়িত্ব নিতে হবে ক্রেতাদেরও—এমনটাই মনে করছেন।