
আতাউর রহমান চঞ্চল, নিউজ ডেস্ক বরিশাল গৌরনদীঃ-
ব্যবসার প্রয়োজনে রাজশাহীর তাহেরপুরে কৃষিপণ্য কিনতে যাচ্ছিলেন তারা। উদ্দেশ্য ছিল ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়াসহ বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করে জাজিরার বাজারে বিক্রি করা। কিন্তু সেই ব্যবসায়িক যাত্রাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল পাঁচ ব্যবসায়ীর প্রাণ। নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪ জনের মধ্যে রয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই এলাকার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত পাঁচজনের একসঙ্গে মৃত্যুর খবরে পরিবার-পরিজন, স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত পাঁচজন হলেন—জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাট এলাকার ভুসামাল ব্যবসায়ী সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারির ছেলে হলুদ ব্যবসায়ী শাহিন বেপারি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা দীর্ঘদিন ধরে জাজিরার কাজিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন। তাদের ব্যবসার ধরনেও ছিল মিল। কেউ ভুসামাল, কেউ হলুদ, আবার কেউ কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ব্যবসার প্রয়োজনে বিভিন্ন মোকামে গিয়ে পণ্য সংগ্রহ করতেন তারা। এবারও একই উদ্দেশ্যে রাজশাহীর তাহেরপুরের পথে রওনা হয়েছিলেন।
নিহত জুয়েল মাদবর ভুসামাল ব্যবসার পাশাপাশি কাজিরহাটে রড ও সিমেন্টের ব্যবসাও করতেন। সামাদ ফকির যুক্ত ছিলেন ভুসামালের ব্যবসায়। শাহিন বেপারি হলুদের ব্যবসা করতেন। অন্যদিকে সালাল মোল্যা ও সোহাগ শিকদার কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ভুসামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক থেকে তাদের মধ্যে গড়ে উঠেছিল পরিচয় ও সুসম্পর্ক। একসঙ্গে ব্যবসার কাজে যাতায়াতও ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরের দুর্ঘটনা তাদের পরিবারগুলোর পাশাপাশি জাজিরার ব্যবসায়ী সমাজেও তৈরি করেছে গভীর শূন্যতা।
কাজিরহাটের ব্যবসায়ী দিদার সরদার বলেন, “ব্যবসার কারণে তাদের সবার সঙ্গেই আমার পরিচয় ছিল। তাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল। তাদের এমন মৃত্যুর খবর খুবই কষ্টদায়ক।”
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ভোরে সরকারপাড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন হতাহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবরটি জাজিরায় পৌঁছালে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। পরিচিতজন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও তাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহম্মেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তবে নাটোরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। মরদেহ জাজিরায় নিয়ে আসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
একটি ব্যবসায়িক যাত্রার পেছনে ছিল জীবিকা, স্বপ্ন আর পরিবারের দায়িত্ব। কিন্তু নাটোরের সেই দুর্ঘটনায় একসঙ্গে পাঁচ ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে থমকে গেছে পাঁচটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন, শোক নেমে এসেছে জাজিরার পরিচিত ব্যবসায়ী মহলে।