
স্টাফ রিপোর্টার:
বরিশালের হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের মান্দ্রা বাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক ও হিজলা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী ইসমাইল মোল্লাকে প্রধান আসামি করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, একজন ত্যাগী, সাহসী ও একনিষ্ঠ ছাত্রদল কর্মীকে রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখতেই পরিকল্পিতভাবে এই হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের মান্দ্রা বাজারে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ফরিদ ও তানভীর তালুকদার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ফরিদ গ্রুপের পক্ষ থেকে হিজলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় ইসমাইল মোল্লাকে।
তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, সংঘর্ষের সময় ইসমাইল মোল্লা ঘটনাস্থলে ছিলেন না। বরং ওই সময় তিনি হারিয়ে যাওয়া নিজের পাসপোর্টের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হিজলা থানায় অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি থানার সিসিটিভি ফুটেজ ও জিডির সময় যাচাই করলেই স্পষ্ট হবে বলে তারা দাবি করেন। এছাড়া সংঘর্ষের আগে তিনি স্থানীয় একটি রাস্তা সংস্কারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েও গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
নেতাকর্মীরা আরও দাবি করেন, সংঘর্ষে জড়িত তানভীর তালুকদার গ্রুপের সঙ্গে ইসমাইল মোল্লার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। শুধুমাত্র হিজলা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী হওয়ায় এবং সাংগঠনিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ইসমাইল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সময় উত্তপ্ত ঢাকার রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে দুইবার কারাবরণও করতে হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হিজলা উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, ইসমাইল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে দলের একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মী। দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি রাজপথে ছিলেন। অথচ এমন একজন নেতাকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক।
জেলা ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসমাইল মোল্লা সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন করেছেন। আন্দোলনে অংশ নিয়ে কারাবরণও করেছেন। আজ সেই ত্যাগী কর্মীকেই রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখতে মামলার আসামি করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।
হিজলা উপজেলা ছাত্রদলের এক কর্মী বলেন, ঘটনার সময় তিনি থানায় জিডি করতে ছিলেন। থানার সিসিটিভি ফুটেজ ও জিডির রেকর্ড দেখলেই সেটি প্রমাণ হবে। তারপরও তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আরেক ছাত্রদল কর্মীর ভাষ্য, হিজলা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী হিসেবে ইসমাইল মোল্লার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করতেই একটি মহল এই হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তার নাম মামলা থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও কারাবরণের মতো ত্যাগ স্বীকার করা একজন কর্মীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, থানার সিসিটিভি ফুটেজ ও জিডির তথ্য যাচাই করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইসমাইল মোল্লার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন।