
প্রতিদিনের ক্রাইম নিউজ ডেস্ক, বরিশাল গৌরনদীঃ-
ওয়ারিশ সূত্রে বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য একমাত্র বোনের সাথে চার ভাইয়ের দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিলো। কিন্তু সালিশ বৈঠক শুরুর আগেই ভাইয়েরা হামলা চালিয়ে বৈঠকস্থলে সালিশগণের জন্য বোনের আনা ডেকোরেটরের ভাড়ার চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, আপ্যায়নের খাবার বিনষ্ট করা হয়েছে।
এসময় বাঁধা দেয়ায় ভাইয়েরা তার বোনসহ তিনজনকে মারধর করে আহত করেছে। পরবর্তীতে হামলার কারণে মীমাংসা বৈঠক পন্ড হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের সত্যতা পেয়েছেন। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত খাদিজা বেগম।
ওই গ্রামের মৃত আব্দুল হাই হাওলাদারের একমাত্র মেয়ে ও একই গ্রামের এনায়েত হোসেন খানের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৪৭) অভিযোগ করেন, তার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে ওয়ারিশ সূত্রে রেকর্ডমূলে তিনি ১৭ শতক জমির মালিক। কিন্তু তার বাবার মৃত্যুর পর পুরো সম্পত্তি তার ভাই আজমির হাওলাদার, আমির হোসেন, জাকির হোসেন ও ইকবাল হাওলাদার ভোগ দখল করে আসলেও তার (খাদিজা) কোন খোঁজ খবর নিচ্ছেন না।
খাদিজা বেগম আরও জানান, বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির রেকর্ডে আমার নাম থাকা সত্বেও ভাইয়েরা আমাকে পুরো সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে দীর্ঘদিন থেকে নানাধরনের ষড়যন্ত্র করে আসছে। একপর্যায়ে আমি (খাদিজা) ওয়ারিশসূত্রে পৈত্রিক সম্পত্তির মালিকানা বুঝে পেতে সকল কাগজপত্রসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করি।
পরবর্তীতে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে আমার ভাইয়েরা সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে রাজি হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য শুক্রবার (১৫ মে) পরবর্তী তারিখ নির্ধারন করা হয়। সেমতে ওইদিন সকাল সাড়ে দশটার দিকে তিনি (খাদিজা) সালিশদের বসার জন্য স্থানীয় একটি ডেকোরেটর থেকে ১০টি প্লাষ্টিকের চেয়ার, একটি টেবিল ও আপ্যায়নের জন্য খাবার নিয়ে দুইজন শ্রমিকসহ বাবার বাড়িতে হাজির হন।
খাদিজা বেগম বলেন, সালিশগণ ঘটনাস্থলে আসার আগ মুহুর্তে আমার ভাইয়েরা অর্তকিতভাবে হামলা চালিয়ে ডেকোরেটরের চেয়ার, টেবিল ভাঙচুরসহ আপ্যায়নের খাবার বিনষ্ট করে। এসময় আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধর করে আহত করা হয়। একপর্যায়ে আমাকে রক্ষার জন্য খোকন মৃধা ও রুহুল আমিন বেপারী এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধর করে আহত করা হয়েছে। এমনকি আমার ওয়ারিশমূলে পাওনাকৃত সম্পত্তি কোনভাবেই বুঝিয়ে দিবে না বলে হামলাকারীরা সম্পত্তির জন্য আমাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করেন।
খাদিজা বেগম আরও বলেন, হামলাকারী আমার ভাইয়েরা স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের চরমভাবে অপমানিত করে। ফলে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ায় আমি আমার ওয়ারিশমূলে পাওনাকৃত সম্পত্তি বুঝে পাইনি। পৈত্রিকসূত্রে ওয়ারিশমূলের সম্পত্তি ফিরে পেতে ও হামলাকারী ভাইদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তিনি (খাদিজা বেগম) প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
হামলার ব্যাপারে অভিযুক্ত আজমির হাওলাদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অসংখ্যবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল লিখিত অভিযোগপ্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।