
মোমিন ইসলাম সরকার,দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
পঞ্চগড়:পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি গ্রামের শত শত বিঘা ফসলি জমি জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি পুকুর খননের কারণে দীর্ঘদিনের প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এতে আমন মৌসুমের চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাহার বগুড়াপাড়া, ডাঙ্গীপাড়া, গোয়ালপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া ও আশপাশের এলাকার বৃষ্টির এবং স্রোতের পানি দীর্ঘদিন ধরে একরামুল ইসলামের বাড়ির পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জোড়াপুলের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হতো। এই প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের ওপর নির্ভর করেই এলাকার কৃষিজমি জলাবদ্ধতামুক্ত থাকত।অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি একরামুল ইসলাম তার জমিতে একটি পুকুর খনন করায় ওই পানি প্রবাহের পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে স্রোতের পানি স্বাভাবিকভাবে জোড়াপুলে পৌঁছাতে পারছে না।
এতে উজানের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি জমে শত শত বিঘা কৃষিজমি বুকসমান পানিতে তলিয়ে গেছে।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, জলাবদ্ধতার কারণে তারা আমন ধানের চারা রোপণ, জমি প্রস্তুতকরণসহ মৌসুমি কৃষিকাজ করতে পারছেন না। ইতোমধ্যে অনেক জমি পানিতে ডুবে গেছে, বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে এবং আমনের চারাও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একরামুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।
দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় শুধু কৃষিজমিই নয়, এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, বসতবাড়ি এবং পরিবেশও ক্ষতির মুখে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী সোনাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ পুনরুদ্ধার, স্রোতের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত এবং কৃষিজমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে সোনাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান বলেন, “পানি নিষ্কাশনের জন্য জনসাধারণের একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।” এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং কৃষকরা স্বাভাবিকভাবে কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।