
মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃ-
নানান নাটকিয়তার পরেও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব না পেয়ে অবশেষে থানায় মিথ্যা খুন ও গুমের অভিযোগ দায়ের করেন আলহাজ্ব সুজাউদ্দৌলা কলেজে প্রভাষক দিলরুবা পারভীন।
সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে তিনি নিজেকে অত্র কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দাবী করেন এবং অভিযোগ করেন একই কলেজের এডহক কমিটির হিতৈষী সদস্য ও প্রয়াত আলহাজ্ব সুজাউদ্দৌলার একমাত্র মেয়ে শামিম আরা মিঠুসহ তার ভাতিজা জনির বিরুদ্ধে। তবে থানায় করা অভিযোগে খুন ও গুম করার হুমকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোন শিক্ষকদের নাম ও স্বাক্ষীর নাম উল্লেখ নাই।
এবিষয়ে অভিযুক্ত শামিম আরা মিঠু বলেন,“দিলরুবা পারভীন দীর্ঘ কয়েকমাস থেকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হবার জন্য বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে আসছে, তার কোন অপকৌশল কাজে না লাগায় তিনি আমার নামে থানায় খুন ও গুমের মিথ্যা অভিযোগ করে। পুলিশ সুষ্ঠ ভাবে তদন্ত করলেই অভিযোগের আসল রহস্য বের হয়ে যাবে। আমি কেন শিক্ষকদের হুমকি দিবো, উপযুক্ত স্বাক্ষী প্রমাণ দিয়ে আমার নামে মামলা দায়ের করুক।”
তবে থানায় অভিযোগের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দিলরুবা পারভীন অত্র কলেজের জৈষ্ঠতম দশম নম্বর শিক্ষক সে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে চায় এতে আমার পরিবারসহ অত্র কলেজের জৈষ্ঠ্য শিক্ষকরা দ্বিমত পোষণ করে এবং কমিটির বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশে আমরা আলমগীর হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করি। আলমগীর হোসেন প্রথম থেকেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছে, এরপর নিয়মানুযায়ী জৈষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে যে শিক্ষকের নাম আসবে তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করবে। দিলরুবা পারভীনের সিরিয়াল অনেক দেরিতে, আমরা অন্য শিক্ষকদের হক নষ্ট করে তাকে দায়িত্ব দিতে পারি না।
তিনি আরও বলেন, “অনেক কলাকৌশল অবলম্বন করেও তিনি নিয়মের বাইরে দায়িত্ব পাচ্ছেন না তাই আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। যদিও থানা থেকে আমার সাথে অভিযোগ নিয়ে কোন কথা হয়নি।
শামিম আরা মিঠু আরও বলেন, “বিগত ৪/৫ মাস যাবৎ কলেজের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আমি নাকি ভর্তির টাকা নিয়ে নিচ্ছি। ভর্তির টাকা তো নতুন শিক্ষার্থীরা ব্যাংকে জমা দিচ্ছে তাহলে আমি কিভাবে টাকা নিচ্ছি? দিলরুবা পারভীন আমার বাবা প্রয়াত সুজাউদ্দৌলার সুনাম নষ্ট করছে, কলেজের ৩/৪ জন শিক্ষককের সাথে আতাত করে বিভিন্ন অপকর্ম করে যা কলেজের সকল শিক্ষকদের কাছে প্রমাণিত।”
খুন ও গুমের অভিযোগ নিয়ে সুজাউদ্দৌলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: আলমগীর হোসেন বলেন, “দিলরুবা পারভীনের অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। অভিযোগে যে তারিখ দেওয়া আছে সেই তারিখে শামিম আরা মিঠু কলেজেই আসেনি এমনকি এমন খুনও গুমের হুমকীর বিষয়ে অন্য কোন শিক্ষক -কর্মচারী কিছুই জানে না। দিলরুবা পারভীন দীর্ঘ কয়েকমাস থেকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হবার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির করছে কিন্তু নিয়মানুযায়ী সে হতে না পারায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারসহ থানায় অভিযোগ করেছে। আসলে তার মুল উদ্দেশ্য হলো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করা নিয়ে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, “কলেজে অস্থিরতা তৈরি করছে মাত্র ৩/৪ জন শিক্ষক। তাদের মধ্যে একজন শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাথে অশোভন আচরণসহ হাইকোর্টের আদেশকে অমান্য করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথাবার্তা বলে বেড়াচ্ছে। আলহাজ্ব সুজাউদ্দৌলা কলেজের শিক্ষকদের দাবী নিয়মনীতি অনুসরণ করে কলেজ পরিচালনা করা হোক, কলেজে শিক্ষার পরিবেশ ঠিক থাকুক।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযোগকারী দিলরুবা পারভীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এখন ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলবো।”
অভিযোগের বিষয়ে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অভিযোগ আসলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করা নিয়ে খুন ও গুমের হুমকি প্রদান করাটা সঠিক না। তারপরও আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে তদন্ত করে কি পেয়েছে সেটা জানাতে পারবো।”
উল্লেখ যে আলহাজ্ব সুজাউদ্দৌলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করা নিয়ে বিগত কয়েকমাস থেকে কলেজের বর্তমান এডহক কমিটির বিরুদ্ধে দিলরুবা পারভীন এবং ৩/৪ জন শিক্ষক মিলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহলে অপপ্রচার চালাচ্ছে যাতে কলেজের সুনাম নষ্ট হচ্ছে তাই স্থানীয় সুশীল সমাজের দাবী এটার একটি সঠিক সমাধান হওয়া দরকার।