
আতাউর রহমান চঞ্চলঃ- ধান নদী খাল এই তিনে বরিশাল। এক সময় বরিশাল জেলা কে বলা হতে শস্য ভাণ্ডার গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন বোরো ধান রোপণের ভরা মৌসুম। কৃষি প্রধান এই অঞ্চলে শাক-সবজি, সরিষা ও ভুট্টার চাষ হলেও অর্থকরী ফসল হিসেবে বোরো ধানই একমাত্র ভরসা। বোরো চাষের জন্য জমিতে আগাছা পরিষ্কার করে প্রস্তুত রছেন কৃষক তাদের সাথে মাঠে বিচ তুলছেন কৃষাণী। এখন শুরু করেছেন চারা রোপণ।
গৌরনদী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিভিন্ন জমিতে কৃষি অফিসের তথ্য মতে এ মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান লাগানো হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বার্থী ইউনিয়নের উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড় সংলগ্ন গাইনের পাড় এলাকার বিভিন্ন মাঠে তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে কৃষি জমিতে বোরো চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। শীতের সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠে মাঠে চলছে হাল-চাষ, মই টানা, সার প্রয়োগ, জমির আইল নির্মাণ, পানি সেচ, বীজতলা থেকে চারা তোলা ও রোপণ চলছে। পুরুষদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকও ধান লাগাতে মাঠে নেমেছেন। কর্ম ব্যস্ত কৃষক ও শ্রমিকরা মাঠেই খাচ্ছেন দুপরের খাবার। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এখন গৌরদনী উপজেলার মাঠে মাঠে।
উপজেলার কৃষক জিল্লুর রহমান জানান, আমার ৮ বিঘা জমির মধ্যে ২ বিঘা রোপণ করা হয়েছে। সরিষার জমি ছাড়া বাকি জমিতে চলছে আগাম জাতের ইরি-বোরো ধান রোপণ। সরিষা ঘরে তোলার পর পুরোদমে শুরু হবে বোরো ধান রোপণের কাজ। আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রতি বিঘা জমিতে ধান পাওয়া যাবে প্রায় ২৫ মণ।
গৌরনদী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে চলছে চারা রোপণের কাজ। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। এ এলাকায় সাধারণত ব্রিধান-২৮,২৯ এছাড়াও উন্নত ৫০, ৫৮, ৬৪, ৮১, ৮৪, ৮৯, ৯২, ৯৬ সহ বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের ধান চাষ করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সেকেন্দর শেখ জানান, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। ধানের দাম ভালো থাকায় বর্তমান সময়ে বোরো ধানের চাষ করে কৃষক লাভবান হচ্ছেন।