
মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃ-
শিক্ষা নগরী রাজশাহীর উন্নয়নের গোড়াপত্তন শুরু হয় মূলত ১৯৯১ সালের পর। সিটি করপোরেশন গঠনের পর প্রথম নির্বাচনে মেয়র মনোনীত হয়েছিলেন সেইবার মিজানুর রহমান মিনু। এরপর থেকে তিনি রাজশাহীর উন্নয়নে রাজশাহীর আধুনিক স্টেশন নির্মাণ শহর উন্নয়নে নানা কার্যক্রম হাতে নেন। এরপর ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে দুই মেয়াদে আবারও মেয়র নির্বাচিত হোন। মেয়র থাকাকালেই ২০০১ সালে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হন। এতে করে বিভাগীয় শহর রাজশাহীর উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা পালন করেন। সর্বশেষ ২০৭ মসালে মেয়র থাকাকালীন তিনি তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এবার নির্বাচনেও রাজশাহী সদর আসনের প্রভাবশালী প্রার্থী হিসেবেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান মোঃ সোহেল রানা সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির চেয়ার পার্সনের সাবেক উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু।
প্রশ্ন: ভোটাররা কেন আপনাকে ভোট দেবে?
মিজানুর রহমান মিনু: বিএনপির আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমাদের দলের নেতৃত্বে এসেছেন জনাব তারেক রহমান। তিনি নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করার স্বপ্ন দেখছেন। নির্বাচিত হলে রাজশাহীর উন্নয়নে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ঢেলে সাজানোসহ এই অঞ্চলের উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন তারেক রহমান। তাই মানুষ বিএনপির প্রতি আগ্রহী। আর আমি রাজশাহীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। সে কারণে আমার প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এখনো রয়ে গেছে।
প্রশ্ন: রাজশাহী-২ (সদর) আসন কি এখনো আপনার জন্য চ্যালেঞ্চ:
মিজানুর রহমান মিনু: ‘আমি যখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলাম, তখন সবার সাথে ভাল ব্যবহার করেছি। দীর্ঘ দিন ধরে আমি মানুষের সেবা করে আসছি। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কখনো দুর্নীতির কোনো অভিযোগ করতে পারেনি। ফলে বড়রা আমাকে সন্তানের মতো দেখে। আমি কারও সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করিনি। কোনো অন্যায়ও করিনি। সবকিছু বিবেচনা করে দলমত নির্বিশেষে রাজশাহীর মানুষ আমাকে ভোট দেবেন বলে আমার বিশ্বাস। তার পরেও প্রতিটি নির্বাচনই হলো চ্যালেঞ্জের একটি অংশ।’
প্রশ্ন: তাহলে কি আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরাও আপনাকে ভোট দিবে?
মিজানুর রহমান মিনু: ‘আমি মনে করি আমাকে সব দলের ভোটাররাই ভোট দিবেন। কারণ আমি সবার জন্য কাজ করেছি। কেউ আমার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে যায়নি। যখন মেয়র ছিলাম, নগর ভবনের দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত ছিলো। সবাই আমার কাছে সহজেই আসতে পেরেছেন। আমি এখনো এই শহরে রিকশায় চলা-ফেরা করি। সাধারণ মানুষের কাতারে গিয়ে মিশি। কাজেই সব শ্রেণি-পেশার মানুষই আমাকে সমর্থন করছেন।’
প্রশ্ন: প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের ওপর আপনার শ্রদ্ধা কতটা?
মিজানুর রহমান মিনু: ‘আমরা যাঁরা নির্বাচন করছি সবাই ভাই ভাই। সবাই এই মাটির সন্তান। সবার প্রতি আমার সমান শ্রদ্ধাবোধ আছে। কাউকে অসম্মান করি না। রাজশাহী শান্তির নগরী। সেটা আমাদের সবাইকেই রক্ষা করতে হবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট শেষ করার জন্য আমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে তিনি নির্বাচিত হবেন।’
প্রশ্ন: জয়ী হলে এলাকার জন্য কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিবেন?
মিজানুর রহমান মিনু: ‘প্রথমেই রাজশাহীকে শান্তিপূর্ণ শহর করতে চাই। যারা ভূমিদস্যু, যারা চাঁদাবাজ, যারা সন্ত্রাসী, যারা অস্ত্রবাজ, তাদেরকে নির্মুল করা হবে। সবাইকে নিয়েই তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আর রাজশাহীতে কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করা হবে। এটা নিয়ে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান বলেছেন। রাজশাহীতে আমরা অবশ্যই শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে আইটি সেক্টরে কাজ করব যেন তরুণ প্রজন্ম এখান থেকে আয় করতে পারে। নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা হবে। বিভিন্ন দেশের ভাষা রপ্ত করে দেশের বাইরেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।’
প্রশ্ন: রাজশাহীকে বলা হয় বিএনপির ঘাটি, আবার এই অঞ্চলে জামায়াতেরও একটি শক্ত অবস্থান আছে, সে ক্ষেত্রে আপনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি কে হতে পারেন?
মিজানুর রহমান মিনু: আমি আগেই বলেছি, আমাকে এই শহরের মানুষ প্রচণ্ড ভালোবাসেন। তিনবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। এবারও আশা করছি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো। তার পরেও এবার নির্বাচনে আমার মূল প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী হচ্ছেন জামায়াত ইসলামি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। যদিও এর আগে কখনোই রাজশাহীতে জামায়াত শক্ত অবস্থান তৈরী করতে পারেনি।