
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ-লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের ন্যায্য দাবীতে রাস্তা অবরোধ করে বেঙ্গল স্যু ইন্ড্রাষ্টিজ কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলনে নামায় পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ জালাল কিসমত আন্দোলনরত অসহায় মেয়ে শ্রমিকদের উপর গণমাধ্যম কর্মীদের সামনেই প্রকাশ্য লাঠিচার্জ করে শ্রমিক চম্পা সহ কয়েকজনকে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সকাল ৮টা থেকে লক্ষ্মীপুর – রায়পুর আঞ্চলিক সড়কের রায়পুর রাখালিয়া বাজার ঐ কারখানার সামনে এ অবরোধ ও বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা।
কর্তৃপক্ষ দাবী না মানায় প্রায় তিন ঘন্টাব্যাপী রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এদিকে রাস্তা বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন।
খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এর আগে শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে কারখানার ম্যানেজার সাইফুল কবির, সিনিয়র প্রডাকশন ম্যানেজার নজরুল ইসলামের সাথে কথা বলেন, রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ এমরান খান ও পুলিশ সুপার সার্কেল শেখ সাদি।
বৈঠকে শ্রমিকদের রবিবার দুপুর ১২টার মধ্যে তাদের ব্যাংক হিসেবে এক মাসের বেতন দেয়ার আশ্বাস দেন। একই সাথে বোনাসের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন। তবে লিখিত কোন আশ্বাস না পাওয়ায় শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের এ আশ্বাস প্রত্যাক্ষাণ করেন।
শ্রমিকরা জানান, এক একজ শ্রমিক ৬ মাস, ৩ মাস ও ২ মাসের ওভারটাইম সহ বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে হঠাৎ নোটিশ ছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে শনিবার সকাল ৮ থেকে ১৫ এপ্রির পর্যন্ত কারখানা বন্ধ করে দেয় মালিক পক্ষ। যার প্রেক্ষিতে সকালে রায়পুর বেঙ্গল সু কারখানায় তালা ঝুলতে দেখে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন শ্রমিকরা। পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রায় তিন ঘন্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নারী শ্রমিকদের গায়ে হাত দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে চেয়ারম্যান ইউসুফ জালাল কিসমত বলেন, “আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করেছি।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন ফারুক মজুমদার বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করানো হয়েছে। রোববার ১২টার মধ্যে শ্রমিকদের প্রাপ্যের একটি অংশ পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষ আশ্বাস দিয়েছেন। শ্রমিকদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”