
রাজশাহী ব্যুরো প্রধানঃ-
সফুরা এলাকায় দুই কোটি টাকা মূল্যের চার কাঠা জমি দখল নিতে বাঁশের বেড়া লাগিয়ে দিয়েছেন এক বিএনপি নেতার বড় ভাই। দুই দিন আগে জমিতে প্রবেশের মূল ফটকের তালা খুলে জমির একপ্রান্তের চার কাঠা জমি তার দাবি করে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন বিএনপি নেতার ভাই।
জমির মালিকসহ স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাজশাহী মহানগরের শাহমখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুমন সরদারের ভাই ছানা বেড়া দিয়েছেন জমি দখলে নিতে। বিএনপি নেতার ভাই কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দাবি করেছেন বাউন্ডারির ভেতরে তার চার কাঠা জমি আছে। ঘটনার পর জমির মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালের আগে ওই স্থানে একটি পরিত্যক্ত পুকুর ছিল। বিশাল আয়তনের পুকুরটির নাম ছিল সুখানদীঘি। পুকুরের মালিকেরা পূর্বপ্রান্তের বেশিরভাগ অংশ কয়েক বছরে ভরাট করেন। সপুরার মূলসংলগ্ন পুকুরটির ভরাট অংশ বিভিন্নজন কিনে নিয়ে ছোট বড় ২০টি দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করছেন। দোকানগুলোর পেছনের ২৪ শতক জায়গা মূল মালিকের কাছ থেকে কিনেছিলেন সোহেল রানা, কেয়া আক্তার ও মোসা. সাথীয়ারা। সোহেল রানার জায়গার উত্তরপ্রান্তে সৌরভ নামের এক ব্যক্তিও জমি কিনে একটা একতলা বাড়ি বানিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোহেল রানাসহ তিনজন সুখানদীঘির ভরাট হওয়া ২৪ শতক জায়গা কিনে ভূমি অফিস থেকে যথারীতি খারিজ করেন। ডিসিআর কেটে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছেন। ভূমি অফিস থেকে পৃথক খতিয়ান সৃষ্টি করে ক্রেতাদের মালিকানা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয়রাসহ ভুক্তভোগী জমি মালিকেরা অভিযোগে আরও জানিয়েছেন হঠাৎ করেই কয়েক দিন আগে বিএনপি নেতা সুমনের বড় ভাই ছানা লোকজন নিয়ে জমিতে গিয়ে চার কাঠা জায়গার মালিকানা দাবি করে সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন। যেখানে জমির প্রকৃত মালিকেরা জমি কেনার পর সেখানে সবজিসহ বিভিন্ন গাছ গাছালি লাগিয়েছিলেন। জমির মালিকেরা বেড়া দেওয়ার প্রতিবাদ করলে বিএনপি নেতার ভাই দাবি করেছেন সেখানে তার চার কাঠা জমি আছে। এ কারণে সে বেড়া দিয়ে ঘিরেছে। এই জায়গা সে এখন দখলে নিতেই বেড়া দিয়ে ঘিরেছেন।
জমির ক্রেতা সোহেল রানা, কেয়া আক্তার ও মোসা. সাথীয়ারার ক্রয় দলিল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে- তারা ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রাজশাহী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি নিবন্ধন করেন তারা।
জমির দাতা মনিরুজ্জামান জানান, তিনি সোহেল রানাসহ চারজনের কাছে জমি বিক্রি করে দলিল করে দিয়েছেন। সেখানে আর কারও কাছে জমি বিক্রি করেননি।
জানা গেছে, সপুরা মৌজার এই জমিটা আগে ছিল পুকুর শ্রেণি। পরে ক্রেতারা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আবেদন করে ভিটা শ্রেণিতে রূপান্তর করেন। জমির ক্রেতাদের মধ্যে ছানা নামের কারো নাম নেই।
জমিগুলোর ক্রেতাদের অন্যতম সোহেল রানা বলেন, আমরা ২০২৩ সালে জমি ক্রয় করে খারিজ শেষে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছি। কিন্তু হঠাৎ করেই আমাদের জমির মাঝখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে ছানা নামের একজন দাবি করছেন তিনি নাকি জমির মালিক। কিভাবে তিনি এই জমির মালিকানা দাবি করছেন সেটাও খোলসা করে বলছেন না। তারা স্থানীয় লোক। শুনেছি তার ভাই শাহমখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক। আমাদের জমিতে আকস্মিকভাবে এই বেড়া দেওয়ার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা তাও বুঝতে পারছি না।
অন্যদিকে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি নেতার ভাই ছানা একসময় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তাক হোসেনের ছত্রছায়ায় পাসপোর্ট অফিসে দালালি করতেন। আওয়ামী লীগ নেতার প্রভাবে নিজ এলাকায় দাপট দেখাতেন। ৫ আগস্টের পর তার ভাই সুমন সরদার শাহমখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক হওয়ার পর ছানার দাপট আরও বাড়ে। অন্যের জমিতে বেড়া দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি নেতার ভাই ছানা বলেন, বিএনপিতে আমার পদপদবি নেই। তবে আমার ভাই শাহমখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক।বেড়া দিয়ে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও দাবি করেন আমি সপ্তাহখানেক আগে কাটাখালির নান্নু নামের একজনের কাছ থেকে দুই কাঠা জমি কিনেছি। আমি কোনো বেড়া দেইনি। আগে থেকেই বেড়া দেওয়া ছিল। কত কাঠা জমি কিনেছেন জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
তিনি আরও দাবি করেন, পাসপোর্ট অফিসের সামনে আমার একটা দোকান আছে। সেখান থেকে আবেদনকারীদের ফরম পূরণ করে দেওয়া হয়। আমি দালালি করি না