1. admin@protidinercrime.com : admin :
  2. protidinercrime@gmail.com : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক
লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্মম নির্যাতনে প্রান হারালেন মাদারীপুরের রাকিব নামের এক যুবক - Protidiner Crime - প্রতিদিনের ক্রাইম
২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| সোমবার| রাত ১১:২১|
সংবাদ শিরোনামঃ
গৌরনদীতে ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। ভাষা সৈনিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গৌরনদীতে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশ ক্যাম্পের উদ্ধোধন নিরাপদ সড়ক দাবিতে গৌরনদীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন, মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ। রাজশাহীতে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন মাহমুদা হাবীবা। রাজশাহীর দুর্গাপুরে র‍্যাব-৫ এর অভিযানে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে গৌরনদীতে সমন্বয় সভা প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসরভাতা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী স্বপন। মাদারীপুরে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে রিপোর্টার্স ইউনিটির-২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি ড. মোঃ শাজাহানের সাফল্য ডাসার উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি ঘোষণা, সভাপতি হেমায়েত খাঁন, সাধারণ সম্পাদক খান মাসুদ রানা।

লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্মম নির্যাতনে প্রান হারালেন মাদারীপুরের রাকিব নামের এক যুবক

প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ১৯৫ বার পড়া হয়েছে

লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্মম নির্যাতনে প্রান হারালেন মাদারীপুরের রাকিব নামের এক যুবক

মোঃ হেমায়েত হোসেন খান
নিজস্ব প্রতিবেদক মাদারীপুর

লিবিয়ায় মাফিয়া দালালের খপ্পরে পড়ে উন্নত জীবনের আসায় ইতালিতে পাড়ি জমাতে চেয়েছিলো মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার রাকিব মহাজন নামে এক যুবক।

লিবিয়াতে দীর্ঘ তিন বছর যাবৎ গেমঘরে দালাল চক্রের ভয়াবহ অমানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে মারা গেছেন বলে খবর পেয়েছেন তার পরিবার। এ খবরে নিহতের পরিবারের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। সন্তানের শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন রাকিবের বাবা-মা,ভাই-বোনসহ পাড়া প্রতিবেশী স্বজনরা।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) রাতে রাকিব মহাজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার পরিবার। রাকিব মহাজন মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের পখিরা গ্রামের নাজিম উদ্দিন মহাজনের ছেলে। এদিকে আইনগত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসন।

এবিষয়ে নিহত রাকিবের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত তিন বছর আগে উন্নত জীবনের আশায় মাদারীপুর সদর উপজেলার মৃত ফটিক মৃধার ছেলে জাহাঙ্গীর মৃধার প্রলোভনে পড়ে রাকিব মহাজন। জাহাঙ্গীর মৃধা তার ভায়রা শরীয়তপুরের পালং থানার ধানুকা ইউনিয়নের ছোট বিনোদপুর গ্রামের সোহাগ মাতুব্বরের মাধ্যমে ২৭ লাখ টাকায় ইতালিতে পৌছে দেয়ার চুক্তি করে।

সেই চুক্তি মতে ২৭ লাখ টাকা দিয়ে তিন বছর আগে ইতালির উদ্যেশ্যে রাকিব পাড়ি জমান লিবিয়ায়। তবে লিবিয়ায় নেয়ার পরে গেমঘরে রেখে আরো টাকার জন্যে নির্যাতন চালাতে থাকে সোহাগ মাতুব্বর।

পরে রাকিবের পিতা নাজিম উদ্দিন মহাজন ধার-দেনা করে আরো ৫ লাখ টাকা দেন সোহাগকে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। লিবিয়ায় দুই বছর চার মাস অসহ্য যন্ত্রণা-নির্যাতন সহ্য করে কাটিয়েছে রাবিক মহাজন।

আরো জানা যায়, দুই বছর চার মাস পরে সোহাগের গেমঘর থেকে বেরিয়ে আরেক দালাল সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মন্দী গ্রামের মাজেদ খলিফাকে ধরে রাকিবের পরিবার। তাকে ৮ মাস আগে ১৫ লাখ টাকা দেয় গেম করার জন্যে।

টাকা নেওয়ার পরেও আরো টাকার জন্য গেমঘরে নির্যাতন চালায় সোহাগকে। এক পর্যায়ে রাকিব গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে লিবিয়ার একটি হাসপাতালে নেয়ার পরে মৃত্যু হয় রাকিবের।

তার মৃত্যুর খবর পরিবারকে দালাল চক্রের আর এক সদস্য মাজেদ খলিফা রাকিবের পরিবারকে জানান। প্রাণহীন দেহের কয়েকটি ছবি-ভিডিও দেখে শোকের ছায়া নেমে আসে তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে।

এব্যাপারে নিহত রাকিবের পিতা নাজিম উদ্দিন মহাজন জানান, ‘দফায় দফায় টাকা দিয়ে আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি। এ পর্যন্ত সোহাগ আর মাজেদকে ৪৫ লাখ টাকা দিয়েছি। তারপরে এখন আমার ছেলের মৃত্যুর খবর শুনতে হলো। আমার ছেলে না খাইয়ে মেরে ফেলছে। কয়েকদিন আগেও আমার ছেলে ভিডিওতে তার নির্যাতনের কথা বলেছে। আর বাচাঁর জন্যে আকুতি করেছে। আমি আমার ছেলেকে বাচাতে পারলাম না।’

এভাবে দালাল চক্রের কারণে উঠতি বয়সী রাকিরের মৃত্যকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবার ও এলাকাবাসী। তারা দোষীদের বিচার দাবী করেন। সেই সাথে রাকিবের মরদেহ দেশে আনারও দাবী করেন। নিহতের ছোট চাচা শাহজালাল মহাজন বলেন, ‘নির্যাতন করে আমার ভাতিজাকে হত্যা করেছে। এখন দালালরা বলে অসুস্থ্য হয়ে রাকিব মারা গেছে। আমরা এ হত্যার বিচার চাই। এভাবে যেন আর কোন মায়ের বুঁক খালি না হয়।’

তবে অভিযোগের বিষয় স্থানীয় দালাল জাহাঙ্গীর মৃধা বলেন, দালাল সোহাগ আমার ভায়রা হয় তাই আমাকে অযাথাই মিথ্যা অভিযোগে জড়ানো হচ্ছে। কেউ বলতে পারবে না যে, আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। আর ওই ছেলে অসুস্থ্য হয়ে লিবিয়ায় মারা গেছে। আমার ভায়রা বরং সেখানে ট্রিটমেন্ট করেছে। এর বেশি কিছু জানি না।

আর মাজেদ খলিফার বাড়ীতে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলেছেন, মৃত্যুর বিষয়টি জানার পরে তার পরিবার বাড়ী থেকে পালিয়েছে।

এবিষয়ে মাদারীপুর জেলা পুলিশের তথ্য মতে,গেলো বছর লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে জেলার অন্তত শতাধিক মানুষ মারা গিয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ২০০ শত মামলা দায়ের হয়েছে পাঁচ শতাধিক দালালের বিরুদ্ধে।

মামলায় জামিন পেয়ে পুনরায় দালালিতে যুক্ত হয় তারা। তাই এদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স পুলিশ সুপার মো. সাইফুজ্জামান বলেন, বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। আমরা জেলা পুলিশ এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্সে আছি।

একটি সূত্র মতে, মাদারীপুরে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে মানবপাচার করছেন প্রতারক চক্র। এতের মদদ দিচ্ছে রাজনৈতিক একটি মহল। ফলে ধরা-ছোয়ার বাহিরেই রয়ে যাচ্ছে দালাল চক্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved ©2024 protidinercrime.com