
মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃ-
রাজশাহীতে ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার প্রতিবাদে সাংবাদিক সমাজ রাজপথে নেমেছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেয় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।
এ কর্মসূচিতে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব ছাড়াও রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাব, রাজশাহী প্রেসক্লাব, রাজশাহী অনলাইন সাংবাদিক ফোরাম, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন রাজশাহীর শাখা, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী শাখা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা যোগ দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলাটি প্রত্যাহার ও শাহমখদুম থানার ওসি মাছুমা মুস্তারীকে অপসারণের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
কী ঘটেছিল? গত ২৬ আগস্ট রাজশাহী নগরীর অগ্রণী ব্যাংক আরডিএ শাখায় জমি নিলামকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কথিত পত্রিকার মালিক পরিচয়দানকারী প্রতারক আক্তারুল ইসলামের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় আক্তার একজন সাংবাদিকের মোবাইল ছিনিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। পুরো ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পরে সাংবাদিকরা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে শাহ মখদুম থানার ওসি মামলা না নিয়ে কেবল লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু কয়েক দিন পরই প্রতারক আক্তারের দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলা (নং-২/২০২৫) রেকর্ড করা হয়। এতে ছয় সাংবাদিক এবং একজন ঠিকাদারকে আসামি করা হয়।
আসামি করা সাংবাদিকরা হলেন- ১. আজিবার রহমান – ‘রাজশাহীর আলো’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক
২. ফায়সাল আহম্মেদ – সিনিয়র ফটো সাংবাদিক
৩. আরিফুল হক রনি – আরটিভির ক্যামেরাম্যান
৪. নাঈম হোসেন কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি
৫. মাজহারুল ইসলাম – গণমুক্তি পত্রিকার ব্যুরো প্রধান
৬. নাজমুল হক – ‘আজকের প্রত্যাশা’র সাংবাদিক
প্রতারক আক্তারের অভিযোগ, সাংবাদিকরা তার কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। তবে ভিডিওচিত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে অভিযোগটি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি আক্তার নিজেই স্বীকার করেছেন, প্রশাসনের চাপে মামলা দায়ের করেছেন। সাংবাদিকরা বলছেন, এটি প্রতিশোধমূলক মামলা—যা পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণেরই প্রমাণ।
সাংবাদিক সমাজের বক্তব্য, মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংবিধান প্রদত্ত অধিকার। অথচ পুলিশের ভূমিকা এখন সাংবাদিক দমন ও সত্য গোপনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তারা বলেন, সাংবাদিকদের মামলা না নিয়ে বরং ভুক্তভোগীদের আসামি করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমসহ বক্তারা অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ওসিকে অপসারণের দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি না মানলে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর আন্দোলনে যাবে।
বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুল ইসলাম, রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ আরিফ, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার মাখন, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রকি, রাজশাহী অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সভাপতি মীর তোফায়েল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন জাহিদসহ অনেকে।
সাংবাদিক নেতারা মনে করছেন, এই মামলা শুধু সাংবাদিকদের নয়—গণমাধ্যমকর্মী সুরক্ষা আইন’ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।