
মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী বিভাগীয় প্রধানঃ-
রাজশাহীর ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে শিক্ষানগরীকে একটি শিল্পসমৃদ্ধ কর্মসংস্থান নগরীতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এ লক্ষ্যে রাজশাহীতে কৃষিভিত্তিক এগ্রোবেইস ইন্ডাস্ট্রি, রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), হাইটেক পার্ক কার্যকরকরণ এবং কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণসহ একগুচ্ছ বৈপ্লবিক কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগরীর ছোট বনগ্রাম, তেরোখাদিয়া কাঁচা বাজার ও উপশহর ২ নম্বর সেক্টর এলাকায় গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন ডা. জাহাঙ্গীর।
তিনি বলেন, রাজশাহী একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের অভাবে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার ও শিল্প কারখানা না থাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে রাজশাহীতে আধুনিক কৃষিভিত্তিক এগ্রোবেস ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, রাজশাহীতে প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। আমরা কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন করে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতের ব্যবস্থা করতে চাই।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজশাহী বর্তমানে শিক্ষানগরী থেকে বেকার নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন শেষ করলেও কর্মসংস্থানের অভাবে তারা হতাশ হয়ে পড়ছে। এই সংকট উত্তরণে রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ ইপিজেড প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে শতাধিক ইপিজেড থাকলেও রাজশাহী অঞ্চলে এখনো কোনো ইপিজেড নেই। এখানে একটি ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বিসিক শিল্পনগরীর দ্বিতীয় প্রকল্পে প্রকৃত শিল্প উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে বরাদ্দ নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
হাইটেক পার্ক প্রসঙ্গে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, রাজশাহীর হাইটেক পার্কের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা এখনো অব্যবহৃত পড়ে আছে। এটিকে কার্যকর করা গেলে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে তরুণদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য ভাষা দক্ষতা ও ট্রেডভিত্তিক কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। বিদ্যমান টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটগুলোর মানোন্নয়ন এবং নতুন ট্রেড সংযোজনের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা হবে।
গণসংযোগকালে জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোও তুলে ধরেন ডা জাহাঙ্গীর। এর মধ্যে রয়েছে, ১ কোটি তরুণকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা, মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ছাত্র ঋণ’ ব্যবস্থা, কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান,বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পিপিপি (PPP) মডেলে পুনরায় চালু এবং শ্রমিকদের ১০ শতাংশ মালিকানা নিশ্চিত করা, শিল্পায়ন উৎসাহিত করতে আগামী তিন বছরের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির ইউটিলিটি বিল মওকুফের পরিকল্পনা ।
ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী আর শুধু শিক্ষানগরী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে। কৃষি, শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে রাজশাহীর অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গণসংযোগকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মী সহ সাধারণ সমর্থকবৃন্দ।