
প্রতিদিনের ক্রাইম নিউজ ডেস্ক, বরিশাল গৌরনদীঃ-
বরগুনায় এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদ সবুজ জামিন পেয়েছেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারের সময় তাকে হ্যান্ডকাফ পরানো ও হেনস্তার অভিযোগে অভিযুক্ত এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানি শেষে আসাদ সবুজের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে চাঁদাবাজির মামলায় আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় তাকে ছাড়াও আরও ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন স্বপন কুমার ঘোষ।
সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের পর হ্যান্ডকাফ পরানো এবং তার সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বরগুনায় গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানান।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আসাদ সবুজের জামিনের পক্ষে আদালতে আইনজীবী এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস উপস্থিত ছিলেন।
জামিনের পর বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, আসাদ সবুজের জামিনকে তারা প্রাথমিক বিজয় হিসেবে দেখছেন। তিনি দাবি করেন, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি সাজানো এবং তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, মামলার নেপথ্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। বরগুনায় সরেজমিনে গিয়ে জমি-সংক্রান্ত বিষয় ও স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর তারা এ বিষয়ে অভিযোগের কথা জানান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।
মামলার অভিযোগ, আসামিদের পরিচয় এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।