1. admin@protidinercrime.com : admin :
  2. protidinercrime@gmail.com : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক
‎ঈদযাত্রায় গৌরনদীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ২৩; চার লেনের দাবি জোরালো - Protidiner Crime - প্রতিদিনের ক্রাইম
৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| বুধবার| রাত ১:০৪|
সংবাদ শিরোনামঃ
‎ঈদযাত্রায় গৌরনদীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ২৩; চার লেনের দাবি জোরালো ভিজিএফের চালের তালিকা নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষে রণক্ষেত্র পহরডাঙ্গা দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে আহত অন্তত ৩২, হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ রাজশাহী কাশিয়াডাঙ্গায় সংঘর্ষের ঘটনায় ওসি ফরহাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ শিল্প-সংস্কৃতি কি বাংলাদেশে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে – সাংবাদিক সোয়েব সিকদার দুই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর তিন দফায় হামলা, অন্তঃস্বত্ত্বা নারীসহ ১১ জন আহত কুয়াকাটায় “মানুষ মানুষের জন্য” সংগঠনের বনভোজন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত গৌরনদীতে নিরাপদ সড়ক নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সচেতনতামুলক অভিযান পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত,, রামপালে দু’জনের হাতাহাতির ঘটনায় যুবক নিহত শেখ হাসিনা দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে দোয়া মিলাদ অনুষ্ঠিত।

‎ঈদযাত্রায় গৌরনদীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ২৩; চার লেনের দাবি জোরালো

প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

 

এ,এস,মামুন স্টাফ রিপোর্টারঃ-

ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। এরই মধ্যে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা থেকে বাটাজোড় পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। স্থানীয়দের মতে, সড়কের তুলনায় অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক এবং দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত না হওয়াই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

‎গত কয়েকদিনে গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ পালরদী, মদিনা স্ট্যান্ড, বার্থী বাসস্ট্যান্ড, আশোকাঠী ও বাটাজোড় এলাকায় অন্তত পাঁচটি পৃথক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।

‎ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, গৌরনদী স্টেশন সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ পালরদীতে মাইক্রোবাস ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের পাঁচজন আহত হন। একই এলাকায় পরে অজ্ঞাত একটি পরিবহনের চাপায় এক মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হন।

‎মদিনা স্ট্যান্ড এলাকায় অজ্ঞাত একটি যানবাহনের ধাক্কায় জসিম মৃধা নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী আহত হন। বার্থী বাসস্ট্যান্ডে “দশমিনা এক্সপ্রেস” নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ইজিবাইকের সংঘর্ষে তিনজন আহত হন।

‎অপরদিকে আশোকাঠী এলাকায় চাঁদনী ট্রাভেলসের একটি বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ১৪ জন আহত হন। এছাড়া বাটাজোড় এলাকায় তাজ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য—ফিরোজ মাহমুদ, তার স্ত্রী মনিরা বেগম এবং শিশু কন্যা জান্নাত নিহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা দুর্ঘটনাকবলিত বাসে ভাঙচুর চালায়।

‎দুর্ঘটনাগুলোর পর গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আহতদের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কই দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কে পরিণত হয়েছে। কিন্তু যানবাহনের চাপ বাড়লেও সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সেই হারে হয়নি।

‎গৌরনদীর বাসিন্দা ও ঢাকার ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান টুটুল তালুকদার বলেন, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কগুলোর মধ্যে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের গৌরনদী অংশ অন্যতম। মহাসড়কে যতগুলো স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে, তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে গৌরনদী উপজেলা। এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করার সময় গাড়িতে উঠলেই মনে আতঙ্ক কাজ করে—কখন যে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। মানুষের জীবন ও অর্থনীতির স্বার্থে অতিসত্বর এ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন।

‎নিয়মিত এ সড়কে যাতায়াতকারী মো. বাপ্পি বলেন, চাকরির কারণে ঢাকায় থাকি। প্রতি সপ্তাহেই গৌরনদীতে আসা-যাওয়া করতে হয়। পদ্মা সেতু চালুর পর এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় রাস্তা প্রশস্ত করা হয়নি। সড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যান চলাচল করায় প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে।

‎পিকআপ চালক আব্দুল হক বাবু মৃধা বলেন এই মহাসড়কে প্রতিদিন অসংখ্য বাস, ট্রাক ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের ধারণক্ষমতা এত যানবাহন বহনের উপযোগী নয়। বিশেষ করে বড় পরিবহনগুলো অনেক সময় বেপরোয়া গতিতে চলে। আমরা ছোট গাড়ির চালকরা সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকি। প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। মানুষের প্রাণহানি রোধে দ্রুত চার লেনের সড়ক নির্মাণ জরুরি।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঢাকা থেকে পায়রা সমুদ্রবন্দর, কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র এবং দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়ক হওয়ায় এই মহাসড়কের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চার লেন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

‎স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ মনে করেন, শুধু ট্রাফিক আইন প্রয়োগ নয়, ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ককে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করাই হতে পারে দুর্ঘটনা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। অন্যথায় ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব মৌসুমে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved ©2024 protidinercrime.com