
এ,এস,মামুন স্টাফ রিপোর্টারঃ-
১১১ মামলা, দীর্ঘ কারাবরণ ও ত্যাগের ইতিহাস পেরিয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উজিরপুর-বানারীপাড়ার কৃতি সন্তান বরিশাল অঞ্চলের গর্ব, সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা মাহাবুব সিকদার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ উজিরপুর-বানারীপাড়া এলাকায় আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি অবিচল নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়াকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের বিশ্বাস, দলের দুঃসময়ে পরীক্ষিত এই নেতা নতুন দায়িত্বে যুবদলকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ঃ মাহাবুব সিকদার স্কুলজীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। পারিবারিকভাবেও তিনি বিএনপির আদর্শ ও রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।শিক্ষাগত ও সাংগঠনিক পরিচয় শিক্ষাজীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বগুণ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কর্মীবান্ধব মনোভাবের মাধ্যমে নিজেকে একজন সফল সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক দায়িত্বসমূহ হলো— আহ্বায়ক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৯৭–১৯৯৮) নির্বাচিত সভাপতি, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (২০০১) সদস্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। সহ- সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল (পারভেজ-খোকন কমিটি) সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি (টুকু-আলিম কমিটি) সহ-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি।
আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকাঃ ১৯৯৫ সাল থেকে অদ্যাবধি বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম, আন্দোলন ও সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সম্মুখসারির একজন সাহসী সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।
দলের নেতাকর্মীদের মতে, মাহাবুব সিকদার শুধু একজন সংগঠক নন, তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের মাঠে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও নির্ভীক নেতা। দলের সংকটময় সময়ে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। মামলা, কারাবরণ ও ত্যাগের ইতিহাসঃ রাজনৈতিক জীবনে মাহাবুব সিকদারকে বহু প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১১১টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হয়ে তিনি প্রায় ১৯ মাস কারাভোগ করেন। এছাড়াও বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি মোট প্রায় ১০৮০ দিন কারাবরণ করেন। কারাগারে থাকাকালীন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, মামলা-হামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়েও তিনি কখনো দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি; বরং আরও দৃঢ়তার সঙ্গে বিএনপির রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
উজিরপুর-বানারীপাড়ায় আনন্দের জোয়ারঃ মাহাবুব সিকদারের এই অর্জনে উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ মনে করেন, তাঁর এই পদায়ন শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি উজিরপুর-বানারীপাড়ার মানুষের জন্যও এক বিরাট সম্মানের বিষয়।
এ উপলক্ষে বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নেতাকর্মীরা। তারা মনে করেন, যোগ্য, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী নেতাদের মূল্যায়নের ধারাবাহিকতায় মাহাবুব সিকদারের মতো একজন মেধাবী ও সংগ্রামী নেতার হাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
সর্বস্তরের শুভানুধ্যায়ীরা মাহাবুব সিকদারের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, উজ্জ্বল রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে আরও বৃহত্তর অবদান রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।