
মোমিন ইসলাম সরকার, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
গ্রামের ভোর যেমন কুয়াশা ভেদ করে ধীরে ধীরে সূর্যের আলোয় ভেসে ওঠে, তেমনি কিছু মানুষ আছেন যাদের পথচলা শুরু হয় নিঃশব্দে, কিন্তু একসময় তারা হয়ে ওঠেন হাজার মানুষের আলো। পঞ্চগড়ের মাটিতে সেই আলোয় লেখা এক নাম – লাইলী বেগম।
এলাকার মানুষের মুখে মুখে যার একটাই পরিচয় – “হামার লাইলী বেগম “… এই নামের ভেতরে আছে অগণিত দরজায় কড়া নাড়ার গল্প, অসহায়ের চোখের জল মুছে দেওয়ার গল্প, অন্যায়ের সামনে বুক সোজা করে দাঁড়ানোর গল্প। যখন কেউ পাশে ছিল না, তখন তিনি ছিলেন। যখন কারও কণ্ঠ শোনা যাচ্ছিল না, তখন তিনি কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন।
মানুষ কখনো ভুল করে না তাদের ভালোবাসার মানুষ বেছে নিতে। তাই ভোটের মাঠে বারংবার মানুষের আস্থা নদীর জোয়ারের মতো ফিরে এসেছে তাঁর দিকে। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি শুধু দায়িত্ব পাননি, তিনি মানুষের বিশ্বাসের পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বোদা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর পথচলা ছিল ক্ষমতার নয়, ছিল সেবার। ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক দীর্ঘ অঙ্গীকার।
তাঁর জীবন যেন ধানক্ষেতে বাতাসের মতো নীরব, কিন্তু স্পর্শ করলে বোঝা যায় কত গভীর তার শক্তি। নারীর অধিকার, গ্রামের স্বপ্ন, মানুষের নিরাপত্তা এই তিনটি শব্দ তাঁর জীবনের তিনটি নদী, যা মিলেছে এক মোহনায়।
আদর্শের টানে তিনি যুক্ত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে এবং নারীদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দল-এ। দীর্ঘ তৃণমূল রাজনীতির পথে তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে ভয়, চাপ, নির্যাতন, কঠিন সময়ের ঝড়। শেখ হাসিনা সরকারের সময় সেই ঝড় আরও তীব্র হয়েছিল। কিন্তু কিছু বৃক্ষ থাকে, যাদের শিকড় মাটির গভীরে ঝড় তাদের ভাঙতে পারে না, বরং আরও শক্ত করে।
মানুষের ভালোবাসা তাঁর শক্তি।সাধারণ মানুষের দু’আ-ই তাঁর সাহস। এই সম্পর্ক কোনো রাজনীতির ভাষা নয়, এটি হৃদয়ের ভাষা।
আজ সময়ের এক নতুন সীমানায় দাঁড়িয়ে আছে এই দীর্ঘ পথচলা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য প্রয়োজন এমন এক কণ্ঠ, যিনি মাঠের ধুলো চেনেন, নারীর অশ্রু বোঝেন, মানুষের আশা হৃদয়ে ধারণ করেন।
লাইলী বেগম কোনো নাম নয় – তিনি এক আস্থা, এক ইতিহাস, এক অবিচল যাত্রা। হয়তো সময় এসেছে – প্রান্তিক মানুষের মুখে উচ্চারিত সেই ডাকটি জাতীয় সংসদের দেয়ালেও প্রতিধ্বনি তুলুক- হামার মোছাঃ লাইলী বেগম।