
মোঃ সোহেল রানা রাজশাহীঃ-
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে নাগরিক সেবা একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। জন্ম সনদ থেকে মৃত্যু সনদ নিতে নগরবাসীকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। থমকে আছে নগর উন্নয়ন কাজও। নতুন প্রকল্প তো দুরের কথা পুরনো অনেক প্রকল্পই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পৌর পিতা হিসেবে একজন জনপ্রতিনিধি না থাকায় এই সব জটিলতার শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। দীর্ঘ ১৯ মাস ধরে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের এই অচল অবস্থা নিরসনের জন্য নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক চান নগরবাসী। আর এক্ষেত্রে সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিকল্প দেখছে না দলীয় নেতাকর্র্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
ঢাকা উত্তর দক্ষিনসহ দেশের ৬টি সিটি কর্পোরেশনে দলীয় প্রশাসক দেয়ার পর থেকেই নগরবাসী আশায় বুক বেধে ছিল, রাজশাহীতে একজন যোগ্য নেতাকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। বিএনপির মধ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে মাত্র দুইজন নেতার। এর মধ্যে দীর্ঘ ১৭ বছর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বর্তমানে ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাইরে বিএনপি নেতাদের মধ্যে ৫ বছর সিটি কর্পোরেশন চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের। যদিও তিনি ওই ৫ বছরের মধ্যে প্রায় ২৭ মাস জেল ও ফেরারী জীবন কাটিয়েছেন হয়রানীমুলক মামলার শিকার হয়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের অসহযোগিতার পরেও তিনি যেভাবে দুই হাতে কর্পোরেশন সামলিয়েছেন তা মিরাক্কেল ছাড়া কিছু না। আওয়ামী লীগ সরকার নামের জগদ্দল পাথরের বিপরীতে গিয়ে তিনি নগরবাসীর সেবা নিশ্চিতে কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন। কোন কিছুতেই তাকে দমাতে না পেরে পুরোনো পুলিশ কন্সটেবল সিদ্ধার্থ হত্যা মামলা ও রাষ্ট্রদ্রোহী মিথ্যা মামলার সাথে নতুন গায়েবী মামলা দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়কে ব্যবহার করে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে তিনি তার মেয়রের চেয়ার ফিরে পান। এরপর ২০১৮ সালের স্মরণকালের কারচুরি দিনের ভোট রাতে করে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। যা নিয়ে সেসময় ব্যাপক নীতিবাচক প্রতিক্রীয়ার সৃষ্টি হয়। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল কারচুপির সেই নির্বাচনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেন। সেই মামলা এখনো চলমান রয়েছে। এসব কারণে রাজশাহী মহানগর বিএনপির অধিকাংশ নেতা থেকে শুরু করে থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির তৃণমুলের ত্যাগী নেতারা সাবেক মেয়র বুলবুলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মেয়র ও প্রশাসক হিসেবে তাদের প্রথম পছন্দ সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। প্রশাসক হিসেবে বুলবুলের প্রতি আস্থা রাখতে চান তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তারা সেই সমর্থনের কথায় জানান দিচ্ছে। সাবেক কাউন্সিলররা প্রশাসক হিসেবে বুলবুলকেই চান তারা।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্বাস আলী সরদার, বুলবুল সম্পর্কে বলেন, তার মতো ভালো মানুষ খুব কম আছে, বুলবুল শুধু জনপ্রতিনিধি নয় নগরবাসীর বন্ধু। তাকে প্রশাসক করা না হলে বুলবুল ও নগরবাসীর সাথে অন্যায় করা হবে।
১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো: টুটুল সাবেক মেয়র বুলবুল একজন ভালো নেতা। তাকে অন্যায় ভাবে রাজনৈতিক ভাবে হয়রানী ও মেয়র পদ কেড়ে নেয়া হয়। আমরা সাবেক কাউন্সিলররা চায় বুলবুলের মতো একজন অভিজ্ঞ নেতাকে রাসিকের প্রশাসক হিসেবে যেন নিয়োগ দেয়া হয়।
যুবদল নেতা ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোশিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিইএবি) এর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আরিফুজ্জামান সোহেল জানান, ঠিক এই মুহুর্তে দলমত নির্বিশেষে নাগরিক সেবা অর্থাৎ জনদুর্ভোগ দুর করতে দক্ষ প্রশাসক হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিকল্প কেউ নেই। তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলে নগরবাসী উপকৃত হবে।
রাজশাহী মহানগর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অধিকাংশ নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে দাবী তুলেছে, প্রশাসক বা মেয়র হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিকল্প নেই। তাছাড়া ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর স্নেহভাজন ও সহযোদ্ধা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। মিজানুর রহমান মিনু ১৭ বছরের সিটি কর্পোরেশন চালানোর অভিজ্ঞতার সাথে সাবেক মেয়র বুলবুলের ৫ বছরের অভিজ্ঞা দ্রুত সময়ের মধ্যে নগরবাসীকে তাদের কাঙ্খিত সেবা দিতে সক্ষম হবে। বিএনপির ত্যাগী নেতা ছাড়াও সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, রাজশাহীতে সিটি কর্পোরেশন চালানোর মতো অভিজ্ঞতা একমাত্র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের রয়েছে। তাদের দাবি, অতীত অভিজ্ঞতা ও নগর উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে রাজশাহীর চলমান ও অসমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গতি পাবে।
আর নতুন কোন নেতাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিলে প্রশাসনিক কাজ বুঝে উঠতেই তাদের ৬ মাস কেটে যাবে। কাজের কাজ কিছুই হবে না। বরং জনোদুর্ভোগ বাড়বে। শুধু তাই নয় নতুন কাউকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক করলে দলের মধ্যে যে গৃহবিবাদ বা দ্বন্দ্ব রয়েছে তা কয়েকগুন বাড়বে। আর এর প্রভাব পড়বে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সহ কাউন্সিলর নির্বাচনে।
বিএনপির ত্যাগী নেতারা বলছেন, সাবেক মেয়র ও দলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল তার দায়িত্ব পালনকালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ছিল দুর্নীতি মুক্ত। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে কোন দুর্নীীতির মামলা করতে পারেননি সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও তার দল আওয়ামী লীগ। বিগত আওয়ামী লীগর ১৭ বছরে ৪২টি রাজনৈতিক মামলা মাথায় নিয়ে রাজনীতি করেছেন। এই সময়ের মধ্যে ৮ দফা তিনি জেলে গেছেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ৪ দেয়ালের মধ্যে কাটিয়েছেন। পুরো আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রাম ও দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি ছিলেন অবিচল। রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি বহুবার পুলিশী হামলার শিকার হয়ে রক্তাক্ত ও গুলিবিদ্ধ হন। সরকার পতন আন্দোলনে নেতাকর্মীদের তিনি আগলে রেখেছিলেন। ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। নিজ দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে জুলাই যোদ্ধাদের সাথে নিয়ে সরকার পতন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন।
এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি আনারস প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের হেবী ওয়েট প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সাবেক মেয়র ও বর্তমানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন। তার স্বল্প মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক প্রসস্থকরণ, সংস্কার ও সম্প্রসারণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারকরা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন। বিদেশী দাতা সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে তিনি নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করছেন।
এর ফলে নগবাসীর মনে তিনি বিশেষ জায়গা করে নেন। সেই পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে চান বিএনপির ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী সমর্থক সহ নগরীর সাধারণ মানুষ।