
নিউজ ডেস্ক মাদারীপুরঃ-
মাদারীপুরের যুবককে লিবিয়ায় জিম্মি করে চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন,পরে দফায় দফায় আদায় করা হয় অর্ধ কোটি টাকা মুক্তিপন,অভিযোগ করেন ভূক্তভূগী পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে ইতালির উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় গিয়ে মাফিয়ার হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে রাজৈর উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের হুজুরী গ্রামের সিরাজ শেখের ছেলে ইমন শেখ।
লিবিয়ায় ইমনকে জিম্মি করে অমানবিক নির্যাতন করা হয় এবং দফায় দফায় আদায় করা হয় অর্ধ কোটি টাকা মুক্তিপণ। মাফিয়াদের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরেও খোঁজ মিলছে না ইমনের।
লিবিয়ায় নিখোঁজ ইমনের বাবা সিরাজ শেখ সাংবাদিকদের বলেন, আমার সন্তানের জিবন বাঁচাতে ধারদেনা করে, ভিটামাটি বিক্রি করে মাফিয়াদের দাবিকৃত মুক্তিপণের অর্ধ কোটি টাকা তুলে দিয়েছি দালালদের হাতে, তার পরেও সন্ধান মিলছেনা ইমনের,সন্তানের শোকে পাগল হয়ে দালাল রবিউলের দ্বারে দ্বারে আকতি করছে স্বজনরা।
লিবিয়ায় নির্যাতনের শিকার নিখোঁজ যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়-২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ৩ ফেব্রুয়ারী পার্শ্ববর্তী এলাকার খোরশেদ শেখ এর ছেলে দালাল রবিউল শেখ এর সাথে ইতালি যাওয়ার কথা হয়-পরবর্তীতে দালাল রবিউল ইমনের পরিবারকে জানান ১৮ লাখ টাকা দিলে ইমনকে ১-মাসের মধ্যে ইতালিতে পাঠিয়ে দিবে।
পরে দালাল রবিউল এর কথায় রাজি হয়ে, সরল মনে বিশ্বাস করে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয় পরে পাঁচ ফুটের সাথে নগদ ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করার,পরে (৩ ফেব্রুয়ারি)-২০২৫ ইং তারিখে দালাল রবিউল শেখ,ইমনকে ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে লিবিয়ায় নিয়ে যায়।
লিবিয়ায় নিয়ে দালাল রবিউল, গেম দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে আরো ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয়, পরবর্তীতে গেম না দিয়ে ইমনকে মাফিয়াদের কাছে বিক্রি করে দেয় দালাল রবিউল,পরে মাফিয়ারা ইমনকে অমানবিক নির্যাতন শুরু করে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে নেয় ২৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে মাফিয়ারা।
সন্তানের জিবন বাঁচাতে ধার দেনা করিয়া মাফিয়াদের দাবিকৃত ২৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেও সন্তানের খোঁজ পাচ্ছে না সজনরা।
ভুক্তভোগী সিরাজ শেখ আরো বলেন,দালাল রবিউল শেখের কাছে আমার ছেলের সন্ধান ও টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি হুমকি ধামকি দেয়, এছাড়াও তিনি বলেন,আমি রাজৈর থানা শিবিরের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছি বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোকে মামলা দিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে দিব। আমি এই দালাল রবিউলের বিচার চাই।
এবিষয়ে স্থানীয় আশরাফ আলী বলেন,দালাল রবিউল বিষয়টি মিমাংসা করে দিতে বললে আমি স্থানীয় সালিশদের নিয়ে ৫২ লাখ টাকা ফেরত ও লিবিয়ায় নিখোঁজ ইমনকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বলা হয়, পরে দালাল রবিউল স্থানীয় সালিশের রায় মানিয়া, ভুক্তভোগী সিরাজকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয় এবং বাকি টাকা পরবর্তীতে পরিশোধ করার কথা থাকলেও এখন অস্বীকার করছে দালাল রবিউল শেখ।