
আতাউর রহমান চঞ্চল, নিউজ ডেস্ক বরিশাল গৌরনদীঃ-
বরিশালের বাকেরগঞ্জে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের জন্য ব্যবহৃত একই মঞ্চে ‘সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’-এর নামে নৃত্য পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় মঞ্চে দোয়া মাহফিলের জন্য টাঙানো কোরআন শরিফের ছবি সংবলিত ব্যানারও ছিল বলে জানা গেছে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দুধল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরকাঠী মোল্লা বাজারে। স্থানীয়দের উদ্যোগে ৩ ও ৪ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী দোয়া, মিলাদ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, কর্মসূচির প্রথম দিন দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও জনগণের সার্বিক কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে একই মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের সময়ও দোয়া মাহফিলের কোরআন শরিফের ছবি সংবলিত ব্যানারটি মঞ্চে টাঙানো ছিল।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চে এ ধরনের আয়োজন নিয়ে বিভিন্ন মহল সমালোচনা ও নিন্দা জানায়। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনুষ্ঠানটির আয়োজক হিসেবে দুধল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহিন মোল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। শাহিন মোল্লা জানিয়েছেন, এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি বিএনপির কোনো পদে নেই এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে ইউনিয়ন বা উপজেলা বিএনপির কারও কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি।
দুধল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মকবুল খানও জানিয়েছেন, শাহিন মোল্লা দলের কোনো পদে নেই এবং এ আয়োজনের বিষয়ে দলীয় কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদিল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির নাম ব্যবহার করে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের জন্য থানার পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠানের বিতর্কিত কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ একটি আয়োজনের মঞ্চে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে।