
প্রতিদিনের ক্রাইম নিউজ ডেস্ক, বরিশাল গৌরনদীঃ-
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা সেরনিয়াবাত মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো এবং দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার বিষয়টি ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তাঁর পরিবারের মধ্যে। পরিবারের দাবি, সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় না থাকলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁকে একের পর এক মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ছোট ভাই। তিনি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে মঈন আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ঢাকার বিভিন্ন হত্যা মামলাসহ বরিশালের একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলার কারণে তাঁর কারাবাস দীর্ঘায়িত হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ঢাকা ও বরিশালে একাধিক মামলা
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের চারটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর ঢাকার তিনটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ১২ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরে ফজলুল হক ওরফে পলাশ হত্যা মামলায় এবং ১৮ অক্টোবর পল্টন থানায় বিএনপি কর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এর আগে বরিশালে বিভিন্ন মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলেছে। তবে কোন মামলায় বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন, কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং সর্বশেষ আদালতের আদেশ কী—তা সংশ্লিষ্ট মামলার নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
পরিবারের দাবি, রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মঈন আবদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে মূলত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় না থাকলেও পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁকে একের পর এক মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
মঈন আবদুল্লাহর পক্ষের আইনজীবীর দাবি, তাঁকে ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি মামলায় জামিনের সুযোগ তৈরি হলে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে কারামুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট নথি ও আদালতের আদেশের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য, তবে নিজস্ব পরিচয় ব্যবসায়ী হিসেবে
আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর তিন ছেলের মধ্যে মঈন আবদুল্লাহ মেজো। তাঁর বড় ভাই সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ছিলেন। ছোট ভাই আশিক আবদুল্লাহ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হলেও মঈন আবদুল্লাহর নিজস্ব পরিচয়ের একটি বড় অংশ ব্যবসাকেন্দ্রিক। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলার আইনি কার্যক্রম, দীর্ঘ কারাবাস এবং পরিবারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে মনে রাখতে হবে, কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। প্রতিটি মামলায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা ও আদালতের আদেশ যাচাইয়ের মাধ্যমেই মঈন আবদুল্লাহর আইনি পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব।