
প্রতিদিনের ক্রাইম নিউজ ডেস্ক, বরিশাল গৌরনদীঃ-
সরকারি অর্থে নির্মাণের মাত্র দুই মাসের মাথায় বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে যাতায়াতের ইটের সলিং রাস্তার প্রায় ৫০ ফুট ইট তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার দিবাগত রাতে পার্শ্ববর্তী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লক্ষীকান্ত বৈষ্ণবের ছেলে পরিতোষ বৈষ্ণব সঙ্গীয় লোকজন নিয়ে রাস্তার ওই অংশের ইট তুলে ফেলেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাস্তাটি সরকারি অর্থায়নে নির্মিত হওয়ায় ইট তুলে ফেলার ঘটনায় শুধু যোগাযোগব্যবস্থাই ব্যাহত হয়নি, বরং এর সঙ্গে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উপাসনাস্থলে যাতায়াতের বিষয়টিও জড়িত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জোবারপাড়-আস্কর সড়কের পূর্ব পাশে বাঁশতলা থেকে রামদেবের পাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির ও রামদেবের পাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের আওতায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩০০ ফুট ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়। প্রায় দুই মাস আগে রাস্তাটির কাজ শেষ হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শনিবার দিবাগত রাতে পরিতোষ বৈষ্ণব কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই রাস্তার জায়গা নিজেদের দাবি করে সড়কের মাঝামাঝি অংশের প্রায় ৫০ ফুট ইটের সলিং তুলে ফেলেন। এতে রাস্তাটির মাঝখানে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই এলাকায় একটি এনজিও পরিচালিত রামদেবের পাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের চলাচলের অন্যতম পথ এটি। পাশাপাশি রামদেবের পাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিয়মিত পূজা-অর্চনা করে আসছেন।
সামনে শারদীয় দুর্গোৎসব। এর আগে রাস্তার ইট তুলে ফেলায় পূজার সময় মন্দিরে যাতায়াতকারী পূজার্থী ও দর্শনার্থীদের ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মন্দির কমিটির সভাপতি শশীভূষণ বৈষ্ণব বলেন, “পরিতোষ বৈষ্ণব রাতের আঁধারে রাস্তার ইট তুলে ফেলায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সমস্যায় পড়বেন। বিষয়টির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।”
বাগধা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রদীপ রায় হৃদয় বলেন, “সরকারি টাকায় মাটির রাস্তাটিতে ইটের সলিংয়ের কাজ দুই মাস আগে শেষ হয়েছে। শনিবার রাতে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লক্ষীকান্ত বৈষ্ণবের ছেলে পরিতোষ বৈষ্ণব রাস্তার ইট তুলে ফেলেছেন বলে জানতে পেরেছি।”
বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি বলেন, “স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি সরেজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।”
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার বলেন, “রাস্তার ইট তুলে ফেলার বিষয়টি জানতে পেরে সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ওই রাস্তায় একটি স্কুল ও মন্দির থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে সমাধান করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার ইট কীভাবে তুলে নেওয়া হলো এবং জায়গাটি নিয়ে কারও ব্যক্তিগত মালিকানা দাবি থাকলে তার বৈধতা কী—এসব বিষয় সরেজমিন তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও মন্দিরে যাতায়াতকারীদের চলাচল স্বাভাবিক করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।