
মোঃ হেমায়েত হোসেন খান,নিউজ ডেস্ক মাদারীপুরঃ-
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত ১৩ টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। এতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ ভূক্তভূগী পরিবারের। বুধবার (১৪ জানুয়ারী) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছে খাতিয়াল এলাকার আব্বাস চৌধুরী (৪৭) নামে এক ব্যক্তি,আহত আব্বাস চৌধুরীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঘটনায় আহত হয়েছে উভয়পক্ষের অন্তত আরো ৫ জন।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবুল জমাদ্দারের সঙ্গে একই এলাকার শহিদ মাতুব্বার ও আব্বাস চৌধুরীর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে মঙ্গলবার শহিদ মাতুব্বার ও আব্বাস চৌধুরীর লোকজনের আনোয়ার জম্মাদার বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াসহ হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরেই জের ধরে বুধবার ১২ টার দিকে আব্বাস চৌধুরীকে কুপিয়ে গুরতর জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন।
পরে তাকে গুরতর অবস্থায় মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এঘটনায় এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার দুপুর ২ টার দিকে উভয়পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা যায়। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহিদ মাতুব্বার ও আব্বাস চৌধুরীর লোকজন সংঘবদ্ধ হামলা চালায়।
এসময় ঢাকায় কর্মরত বিদ্যুৎ কর্মকর্তা আনোয়ার জম্মাদার, ইতালি প্রবাসী,আরিফ জমাদ্দার, মীর হোসেন, নুর হোসেন, আবুল জমাদ্দার,বিলাল জমাদ্দার, হায়দার শেখ, জাহেদ আলী এবং তাদের বংশীয় লোকের ১৩ টি বসতঘরে, লুটপাট শেষে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
বাঁধা দিতে এলে উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণসহ সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে আগুনে পুরে ছাই হয়ে যায় ১৩ টি বসতঘর।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত আনোয়ার জম্মাদার,বলেন,আমি ঢাকায় বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরত রয়েছি,ওরা আমার বসতঘর আগুনে পুড়িয়ে দিলো,আমার ঘরবাড়ি সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ওরা শুধু আমার বাড়িতে একা আগুন দেয় নাই, ওরা জমাদ্দার বংশের ১৩টি ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন আমরা কোন কিছু বোঝার আগেই, শহিদ ও আব্বাসের লোকজন হঠাৎ এই হামলা চালিয়েছে। আমরা এ হামলার বিচার চাই।’
এদিকে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসেন মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ও ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আবুল আর আব্বাস গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। জারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।