
প্রতিদিনের ক্রাইম নিউজ, ডেস্ক বরিশাল গৌরনদীঃ-
পিরোজপুরের বেকুটিয়া চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু থেকে লোহার পাইপসহ বিভিন্ন চোরাই মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় কয়েকজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেতুর বিভিন্ন লোহার অংশ দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র চুরি করে আসছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে সেতু এলাকা থেকে এসব চোরাই মালামালসহ অভিযুক্তদের আটক করা হয়। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয়, উদ্ধার হওয়া মালামালের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট পুলিশের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, গত সপ্তাহে রাতের বেলায় বড় ট্রলার বা জাহাজের ধাক্কায় সেতুটি পরপর দুইবার কেঁপে ওঠার ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওই সময় সেতুটি কয়েক মিনিট ধরে কেঁপে ওঠার কথা জানা গেছে।
সেতুর বিভিন্ন লোহার অংশ চুরির সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে চোরচক্রের সঙ্গে সেতু কেঁপে ওঠার ঘটনার সম্পৃক্ততা এখনো প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, বেকুটিয়া সেতুতে এর আগেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে সেতুর বৈদ্যুতিক লাইনের তামার তার চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালেও সেতুর প্রায় ৭৫০ মিটার বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে এবং এ ঘটনায় মামলা হওয়ার কথা জানায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সেতুর অবকাঠামোর কোনো অংশ চুরি বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা জরুরি।
আটককৃতদের মধ্যে স্থানীয় শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেমায়েত বেপারীও রয়েছেন।
চুরির ঘটনা ও আটক: পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১২:৩০ টার দিকে অভিযান পরিচালনা করে চোর চক্রটিকে হাতেনাতে ধরে। তারা রাতের আঁধারে ডাইভার বা ডুবুরি নামিয়ে সেতুর পিলারের সাথে যুক্ত একটি বিশাল লোহার পাইপ নদী থেকে টেনে তোলে এবং গ্যাস কাটার দিয়ে কাটার চেষ্টা করছিল।
ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির এই চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার খবরে জেলা বিএনপি বিস্ময় প্রকাশ করেছে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।