
আতাউর রহমান চঞ্চল,নিউজ ডেস্ক বরিশাল গৌরনদীঃ-
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে বিদায় নেওয়ার পর আবেগঘন এক বার্তায় ইউনিয়নবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও নিজের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণ করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে বিদায় নিতে হয় তাকে। বিদায়বেলায় মাহিলাড়াবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব শেষ হলেও ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে তার আত্মার সম্পর্ক কখনো শেষ হবে না।
স্মৃতিচারণ করে সৈকত গুহ পিকলু বলেন, ২০১১ সালে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউনিয়নবাসী তার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে তাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলেন, সেই ঋণ তিনি কোনোদিন শোধ করতে পারবেন না। পরবর্তীতে ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনেও জনগণের ভালোবাসায় নির্বাচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের এই ভালোবাসা তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকার বিষয়টিও স্মরণ করেন তিনি। ইউনিয়নবাসীর সহযোগিতায় পশ্চিম বেজহার এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া এবং পরবর্তীতে সেখানে একটি আধুনিক পরিষদ ভবন গড়ে ওঠার কথা তুলে ধরেন সাবেক এই চেয়ারম্যান।
তার দায়িত্বকালীন সময়ে ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, বাসস্থান, খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ডিজিটাল ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
বিশেষভাবে মাহিলাড়াকে ভিক্ষুকমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সৈকত গুহ পিকলু বলেন, ইউনিয়নের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এসব কাজ সম্ভব হয়েছে। তার দায়িত্বকালে মাহিলাড়া ইউনিয়নের সুনাম দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি জেলা পর্যায়ে দুইবার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও পদক লাভ করেন।
তবে এসব অর্জনের কৃতিত্ব নিজের একার নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই কৃতিত্ব শুধু আমার একার নয়, এটা আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।”
বিদায়ী বক্তব্যের সবচেয়ে আবেগঘন অংশে তিনি নিজের ভুলত্রুটির জন্য ইউনিয়নবাসীর কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, গ্রাম আদালতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়তো অনেককে খুশি করতে পারেননি। কিন্তু ব্যক্তিগত লোভ কিংবা আক্রোশ তাকে কখনো স্পর্শ করেনি। এরপরও মানুষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পথে অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল হয়ে থাকলে কিংবা তার আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
সৈকত গুহ পিকলু বলেন, “আমি চেয়ারম্যান পদ থেকে বিদায় নিয়েছি সত্য, কিন্তু ইউনিয়নের প্রতিটি চেনা পথ, প্রতিটি মানুষের সঙ্গে আমার যে আত্মার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা আজীবন অটুট থাকবে।”
নিজেকে মাহিলাড়া ইউনিয়নের ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমৃত্যু তিনি ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকতে চান। একইসঙ্গে তার বাবা, মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কালিয়া দমন গুহের মতো মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বিদায়ের মুহূর্তে মাহিলাড়াবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সৈকত গুহ পিকলু বলেন, তাদের ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থনের ঋণ কখনো শোধ করার নয়। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং প্রিয় মাহিলাড়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও শান্তিপূর্ণ ইউনিয়ন হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন—এমন প্রত্যাশা রেখে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।