মোমিন ইসলাম সরকার, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সাড়ে ১৫ বিঘা জমিতে সাগর জাতের কলার চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক লিটন ইসলাম। প্রায় ৬ হাজার কলাগাছ নিয়ে গড়ে তোলা তার বাগান এখন সবুজে ভরপুর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন ও লাভের আশা করছেন তিনি।
কৃষক লিটন ইসলাম জানান, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জৈব সার হিসেবে তিনি গোবর সার ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের মধ্যে বিঘাপ্রতি ১০ বস্তা ফসফেট, ১০ বস্তা পটাশ ও ২ বস্তা ইউরিয়া প্রয়োগ করেছেন। এছাড়া জিংক, বোরন ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো অনুখাদ্যও ব্যবহার করেছেন।
তিনি বলেন, “আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রতি গাছ থেকেই ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি। বাজারে দাম সন্তোষজনক থাকলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো মুনাফা করা সম্ভব হবে।”
তবে সারের প্রাপ্যতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন লিটন ইসলাম। তার অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত সার পাননি। তিনি বলেন, “আমার ১০ বস্তা সার প্রয়োজন হলেও মাত্র ১ বস্তার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। ফলে বেশি দামে বাইরে থেকে সার কিনতে হয়েছে। কলা চাষে নিয়মিত সার ও কীটনাশক প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
স্থানীয় কলা ব্যবসায়ী মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “সাগর কলার বাজার চাহিদা সবসময়ই ভালো। লিটন ইসলামের বাগানের কলার মানও বেশ ভালো হয়েছে। ফলন ভালো হলে আমরা সরাসরি বাগান থেকে কলা সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করব। এতে কৃষক যেমন ন্যায্য দাম পাবেন, তেমনি ভোক্তারাও ভালো মানের কলা কিনতে পারবেন।”
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রব্বানি ইসলাম বলেন, “কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও পরামর্শ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গত মাসে সাময়িক সার সংকট থাকায় বিতরণে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল।”
দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোরশেদ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৯৫ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, “দেবীগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া কলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমন বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কলা চাষে লাভজনকতা বেড়েছে, তাই অনেক কৃষক এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”
স্থানীয় কৃষকদের মতে, সময়মতো সার সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেবীগঞ্জে কলা চাষ আরও বিস্তৃত হবে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কৃষি বিভাগের সহযোগিতা এবং অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে লিটন ইসলামের এই সাগর কলার বাগান এলাকায় সফলতার নতুন উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।