মোঃ মোমিন ইসলাম সরকার, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং জনজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তুলে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের সাংবাদিকরা। দিন-রাত পরিশ্রম করে তারা প্রিন্ট ও ডিজিটাল মাধ্যমে সত্য প্রকাশ করেন, ভালো কাজের প্রশংসা করেন এবং অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে সমাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের অবদান অনস্বীকার্য।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকরা প্রয়োজনীয় সম্মান, নিরাপত্তা এবং ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। বিশেষ করে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা সুবিধা ও উপহার বিতরণ করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাংবাদিকরা সেই তালিকার বাইরে থেকে যান।
স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তারা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করলেও ঈদ বোনাস বা উৎসব ভাতার মতো ন্যূনতম প্রণোদনাও পান না। এতে তাদের পেশাগত উৎসাহ ও মনোবল ব্যাহত হচ্ছে।
“দৈনিক জাতীয় মুক্ত খবর” পত্রিকার সাংবাদিক ও জাতীয় রিপোর্টার্স ক্লাব, দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মোমিন সরকার বলেন, “আমরা প্রতিদিন ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরি। ভালো কাজের প্রশংসা করি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের জন্য কোনো ঈদ বোনাস বা উৎসব ভাতার ব্যবস্থা নেই। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।”
একই সুরে কথা বলেন “দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার” পত্রিকার সাংবাদিক রেজাউল ইসলাম। তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা সবসময় জনগণের কথা বলেন, দেশের স্বার্থে কাজ করেন। অথচ আমাদের দিকটি কেউ বিবেচনা করে না। ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন পর্যায়ে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হলেও সাংবাদিকরা প্রায়শই সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন।”
সাংবাদিকদের মতে, তাদের পেশা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তারা নানা ধরনের চাপ, হুমকি এবং অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হন। তাই তাদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায্য পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং উৎসব ভাতা চালু করা সময়ের দাবি। তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়িত হলে পেশার প্রতি আগ্রহ ও দায়বদ্ধতা আরও বাড়বে। এতে সমাজে সত্য, ন্যায় এবং স্বচ্ছতার পক্ষে তাদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি সাংবাদিকদের জোরালো আহ্বান—তাদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। এতে সাংবাদিকরা আরও উদ্যম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, যা সামগ্রিকভাবে দেশ ও সমাজের জন্য ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে।