
আতাউর রহমান চঞ্চল,বরিশাল গৌরনদীঃ-
দীর্ঘ প্রতীক্ষা, রাজনৈতিক মেরুকরণ আর নানা অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে অবশেষে ভোট উৎসবের দ্বারপ্রান্তে বরিশাল-১। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার। এখন কেবল অপেক্ষা ব্যালটযুদ্ধের। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে এ ঐতিহাসিক জনমত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। ভোটাররা বেছে নেবেন তাদের নিজ এলাকার আইনপ্রণেতাকে।
গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে অবিশ্বাস আর হতাশার জন্ম হয়েছিল, সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা ছিল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যেখানে সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্খা প্রতিফলিত হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, সব ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও বিশেষ নিরাপত্তা-সংবলিত ব্যালট পেপার এরই মধ্যে জেলা পর্যায়ের ট্রেজারিগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণকে ঘিরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। প্রচারণা শেষ হওয়ায় এখন নীরবতা নেমে এসেছে নির্বাচনী মাঠে,তবে ভেতরে ভেতরে বইছে উত্তেজনার স্রোত।শহর ও গ্রাম সবখানেই প্রার্থীদের প্রচারণা বন্ধ। শেষ দিনে প্রার্থীরা বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। বরিশাল -১ আসনে এবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে। বিএনপি, স্বতন্ত্র এবং জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের ভোটের লড়াই জমে উঠেছে। বরিশাল-১ আসনেই মূল লড়াই হবে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী এবং বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতিকের প্রার্থীদের ভিতরে ভোটের ব্যালটযুদ্ধে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমনটাই বলেছেন সাধারণ ভোটাররা।
তবে ভোটারদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশা করছেন।তরুণ ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। কেউ কেউ বলছেন, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও দ্রব্যমূল্য এই বিষয়গুলোই তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। যারা এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি কাজ করবেন তারাই তৃণমূলের ভোটে জয়যুক্ত হয়ে সংসদে যাবেন।
গৌরনদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান জানায়, সব ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার, বাক্সসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করাও হবে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চাদরে
আবৃত ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে, রাত পোহালেই ভোট, বরিশাল -১ এখন অপেক্ষায়। আগামীকাল সকালেই ব্যালট বাক্সে বন্দি হবে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে একজন প্রার্থীর ভাগ্য।