মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী বিভাগীয় প্রধানঃ-
রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে ৭ টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। এই তাঁরা সবাই বিএনপির সাবেক নেতা ছিলেন। মনোনয়ন না পেয়ে দলের প্রার্থীর বিপক্ষেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেই সঙ্গে আছেন জামায়াতের প্রার্থীও। ফলে এই সাতটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঘিরেই মূলত ভোটের হিসেব-নিকাশ কষছেন সাধারণ ভোটাররা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোট ব্যাংকের ওপরই নির্ভর করবে জয়-পরাজয়, এমনটিই ভাবছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও। সাতজন প্রার্থীর মধ্যে রাজশাহীতে একজন, নাটোরে দুজন, নওগাঁয় দুজন এবং পাবনার দুটি আসনে মোট আটজন রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই প্রার্থীরা জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো আসনে তাঁরাও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র মতে, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের সাবেক নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম এবং ইসফা খায়রুল শিমুল। এছাড়াও রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মনজুর রহমান। এখানে নজরুল ইসলাম মণ্ডল, রেজাউল করিম ও মনজুর রহমানের মধ্যে ত্রিমূখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
নাটোরের চারটি আসনের মধ্যে দুটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে লড়ছেন দলটির সাবেক দুই নেতা। সঙ্গে আছেন জামায়াতের প্রার্থীরাও। এর মধ্যে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমীনের শক্ত বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন বিএনপির সাবেক নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু। পাশাপাশি আছেন জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী দাউদার মাহমুদ। এখানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির নেতা জার্জিস কাদিরও রয়েছেন। তবে এখানে লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর।
নওগাঁয় ৬টি আসনের মধ্যে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছি) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিদ্রোহী সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী। এখানে আছেন জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমানও। ফলে এখানে লড়াই ত্রিমুখী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনেও রয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আলমগীর কবির। তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকার। তার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম।
পাবনায় ৫টি আসনের মধ্যে দুটি রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী। এর মধ্যে পাবনা-৩ (ভাঙ্গুড়া-ফরিদপু-চাটমোহর) বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাবিদ তুহিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিদ্রোহী সাবেক এমপি একেএম আনোয়ারুল ইসলাম ও জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আছগার। তাঁদের তিনজনের মধ্যে লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী- আটঘোরিয়া) বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় চেয়ার পার্সনের সাবেক উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিদ্রোহী জাকারিয়া পিন্টু ও জামায়াতের প্রার্থী নায়েবে আমীর আবু তালেব মণ্ডল। তবে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ খবর দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, ‘উত্তরাঞ্চল হলো বিএনপির ঘাটি। এখানে বিএনপির প্রার্থীরাই এগিয়ে আছেন। আমাদের বড় ধরনের বিজয় হবে এখানে। তার পরেও আমাদের দলের কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। যেসব আসনে বিদ্রোহী আছেন, সেসব আসনে চ্যালেঞ্জ তো থাকছেই।