মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃ-
মহানগরীর রঙিন টাইলসে নির্মিত ফুটপাতগুলো ড্রেনের ঢাকনা চুরির কারণে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে, যার ফলে পথচারীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন এবং সিটি কর্পোরেশনের উদাসীনতায় সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে।
রাজশাহী কলেজের সামনে থেকে জাদুঘর মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার ফুটপাতে গত এক মাসে অন্তত ২০টি কংক্রিট ও লোহার ফ্রেমযুক্ত ড্রেনের ঢাকনা চুরি হয়েছে। এর ফলে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে গিয়ে গত ১০ দিনে কমপক্ষে চারজন ড্রেনে পড়ে আহত হয়েছেন। সম্প্রতি রাজশাহী কলেজের সামনে এক ছাত্র ড্রেনে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে শহরের বিভিন্ন ফুটপাত ও সড়ক বিভাজক থেকে লোহার ফ্রেম ও স্ল্যাব চুরি বেড়েছে। রাজশাহী কলেজের প্রধান গেটে দায়িত্বরত রাসেল জানান, তার ছেলে কয়েকদিন আগে ড্রেনে পড়ে আহত হয়েছে। তিনি রাতে পাহারা দেওয়ার চেষ্টা করলেও চোরদের ধরতে পারেননি।
রাজশাহী মহানগরীতে ৩৫৭ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে ২৩৬ কিলোমিটার ড্রেন এবং ১২০ কিলোমিটার ফুটপাত রয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রঙিন টাইলস দিয়ে প্রশস্ত ফুটপাত নির্মাণ করা হয়, যেখানে ৬,৫০০টির বেশি কংক্রিট ঢাকনা বসানো হয়েছিল। এই প্রকল্পে ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণে প্রায় ৭০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীদের ড্রেন পরিষ্কারের সময় ঢাকনা খোলার পর পুনরায় না বসানোর কারণে রাতের মধ্যে এগুলো চুরি হয়ে যায়। বিলসিমলা মোড় থেকে সিটি হার্ট পর্যন্ত ৪.৫ কিলোমিটার ফুটপাতে ২৫০টির বেশি ঢাকনা ইতোমধ্যে উধাও হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিমেন্ট ও সরু রড দিয়ে তৈরি এই ঢাকনাগুলো চোরেরা ভেঙে লোহার রড ভাঙারির দোকানে বিক্রি করছে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আগে এলাকার কাউন্সিলররা তদারকি করতেন, কিন্তু গত এক বছরে কাউন্সিলর না থাকায় চুরি বেড়েছে।” নগরবাসীর অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ শুধু লাল নিশানা টাঙিয়ে দায় সারছে, নতুন ঢাকনা বসানোর কোনো উদ্যোগ নেই। রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, “এই ফুটপাত এখন মরণফাঁদ। সামান্য অসতর্ক হলেই ড্রেনে পড়তে হয়।” শেষ রক্ষণাবেক্ষণ ২০২২-২৩ অর্থবছরে নির্মাণের পর হয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে, যার ফলে ড্রেনগুলো অপরিষ্কার এবং ঢাকনা চুরি বেড়েছে।
স্ল্যাব না থাকার কারণে রাজশাহীতে কয়েকজন আহত হয়েছেন, যেমন ইয়াসির আরাফাত নামে এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছেন।
দেশব্যাপী গত ৫ বছরে খোলা ম্যানহোল বা ড্রেনে পড়ে ২৯ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে রাজশাহীতে কোনো মৃত্যুর রিপোর্ট না থাকলেও আহতের সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুধুমাত্র রাজশাহী কলেজ এলাকায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েকজন পথচারী আহত হয়েছেন, এবং অন্যান্য এলাকায়ও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে।
ফুটপাতের বেহাল দশা পথচারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঢাকনা প্রতিস্থাপন, তদারকি জোরদার এবং চোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। সিটি কর্পোরেশন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে দুর্ঘটনা ও জনঅসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।