প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা এক বিষয়, আর জনগণের আস্থা অর্জন করে সফল মেয়র হওয়া আরেক বিষয়—আলোচনায় চার কঠিন প্রশ্ন
আতাউর রহমান চঞ্চল,
প্রতিদিনের ক্রাইম নিউজ ডেস্ক, বরিশাল গৌরনদীঃ-
গৌরনদী পৌরসভার মেয়র পদে কে প্রার্থী হবেন, কে নির্বাচনে জিতবেন এবং শেষ পর্যন্ত কে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে সফল মেয়র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন—এ নিয়ে এখন থেকেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে গৌরনদী পৌর এলাকার বাসিন্দা ও ভোটারদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রশ্নধর্মী লেখা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে ভোটারদের উদ্দেশে স্বাধীনভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র পদকে ঘিরে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে।
লেখাটিতে মূলত জানতে চাওয়া হয়েছে—
১. মেয়র পদে প্রার্থী হতে আইনগতভাবে কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন?
২. শুধু প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা থাকলেই কি একজন ব্যক্তি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত বলে বিবেচিত হবেন?
৩. নির্বাচনে জয়ী হতে একজন প্রার্থীর কী ধরনের জনসম্পৃক্ততা, নেতৃত্বগুণ, গ্রহণযোগ্যতা ও ভোটারদের আস্থা প্রয়োজন?
৪. আর নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর একজন সফল মেয়র হিসেবে জনগণের কাছে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে কী কী গুণ থাকা জরুরি?
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে মেয়র পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে এবং মেয়র প্রার্থীর নাম কোনো একটি ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় থাকতে হবে। পাশাপাশি আইনে নির্ধারিত অযোগ্যতার বিষয়গুলোও প্রযোজ্য।
তবে আইনগত যোগ্যতা আর রাজনৈতিক বা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এক বিষয় নয়। একজন ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ার সব শর্ত পূরণ করলেও ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে হলে তাঁকে নিজের সততা, নেতৃত্ব, নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ, দায়িত্বশীলতা এবং পৌরবাসীর সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হয়।
কারণ ভোটারদের কাছে শেষ প্রশ্নটা শুধু—‘কে প্রার্থী হতে পারবেন?’ নয়; বরং আরও বড় প্রশ্ন—‘কে দায়িত্ব পেলে পৌরবাসীর জন্য ভালো কাজ করতে পারবেন?’
একজন মেয়রের কাছে নাগরিক সেবা, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, পানি ও অন্যান্য পৌরসেবা কার্যকর রাখা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ফলে গৌরনদী পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়েও ভোটারদের সামনে এখন স্বাভাবিকভাবেই কিছু মৌলিক প্রশ্ন উঠতে পারে—
যোগ্যতা আছে তো?
জনগণের আস্থা আছে তো?
নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা আছে তো?
আর নির্বাচিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের মানসিকতা ও দক্ষতা আছে তো?
সবশেষে সিদ্ধান্ত ভোটারদেরই। তাই ব্যক্তি পরিচয়, প্রভাব কিংবা প্রচারণার চেয়ে যোগ্যতা, সততা, জনসম্পৃক্ততা, অতীত কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—এসব বিবেচনায় নিয়ে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবেন, এমন প্রত্যাশাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
গৌরনদী পৌরসভার মেয়র পদে এবার আলোচনার কেন্দ্রে তাই একটি প্রশ্নই—‘কে জিতবেন’ নয়, ‘কে সত্যিকার অর্থে যোগ্য?’