পলাশ তালুকদার, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ-
দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও গণমাধ্যমে ধারাবাহিক লেখালেখির পর অবশেষে মৃতপ্রায় টরকী-বাশাইল খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসন। খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে শিগগিরই খননকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ খবরে ভুক্তভোগী কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
এর আগে ‘বরিশালে মৃতপ্রায় খালে বিপন্ন দুই উপজেলার জনপদ’ শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে, প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ টরকী-বাশাইল খালটি দীর্ঘদিন খনন না হওয়া, অপরিকল্পিত ব্রিজ ও বাঁধ নির্মাণ, খাল দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে ভরাট হয়ে গেছে।
টরকী-বাশাইল খালটি আড়িয়াল খাঁ নদীর শাখা পালরদী নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে টরকী বন্দর, ধানডোবা, রাজাপুর, সাদ্দাম বাজার, মোক্তার বাজার ও চেংগুটিয়া গ্রাম হয়ে বাসাইল বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। একসময় এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি না থাকায় এর ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমির বোরো আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।
খালে পানি না থাকায় কৃত্রিম সেচব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেচের পানির বাড়তি খরচের কারণে অনেক কৃষক ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। কেউ কেউ পান চাষ ও ঘেরের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে খালের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় ফসলি জমি। বাড়ছে অনাবাদি জমির পরিমাণ। দীর্ঘদিনের বদ্ধ পানিতে মশার উপদ্রব ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
গৌরনদী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খুব শিগগিরই খননকাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা পরিবেশকর্মী সৈয়দ মাজারুল ইসলাম রুবেল বলেন, “এটা আমাদের দীর্ঘ আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয়। তবে আমরা চাই লোক দেখানো খনন নয়। CS, SA, RS ও BS রেকর্ড অনুযায়ী খালের সীমানা নির্ধারণ, সীমানার ভেতরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে নাব্যতা সমীক্ষা করে নদীর সঙ্গে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, খালটির নৌ যোগাযোগ পুনরায় সচল হলে পর্যটনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। এর মাধ্যমে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীদের প্রত্যাশা, খালটি বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে খনন ও দখলমুক্ত করা হলে দুই উপজেলার কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে আবারও প্রাণ ফিরবে। পরিবেশকর্মীদের দাবি, নামমাত্র কিংবা ঠিকাদারের ইচ্ছেমতো খনন নয়—প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক, টেকসই ও জনস্বার্থসম্মত খনন করতে হবে।