মোঃ তরিকুল ইসলাম রিপনঃ-
মাদারীপুরে সদর উপজেলার-দুধখালি ইউনিয়নের, বড়কান্দি, ৯ নং ওয়ার্ডের এক দরিদ্র পরিবারের কিশোরী মিতু আক্তার (২০) - এর সাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে-একাধিকবার শারিরীক সম্পর্কের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।রাশেদুল হাওলাদার নামের এক ইটালি প্রবাসীর নামে। তরুণীকে বিয়ে করতে অস্বীকার করায় লোকলজ্জায় ভয়ে আত্ম হত্যা করেন তরুণী বুধবার ৫ নবেম্বর সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মিতু আক্তার।
অভিযুক্ত রাশেদুল মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের পূর্ব হাউজদি এলাকার আনোয়ার হাওলাদারের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে- মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখলী ইউনিয়নের বড়কান্ধি এলাকার দরিদ্র কৃষক আলি তালুকদার মেয়ে মিতু আক্তার(২০) এর সাথে একই ইউনিয়নের পূর্ব হাউজদি এলাকার আনোয়ার হাওলাদারের ছেলে রাশেদুল হাওলাদার(২৬) - প্রায় ৫ বছরে আগে প্রেমের সম্পর্ক হয়। কিছুদিন প্রেমের সম্পর্ক চলে। এর পর রাশেদুল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে নিয়ে তরুণীর সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয়। কয়েকমাস আগে রাশেদুল বিদেশ থেকে বাড়িতে আসে। আগের ন্যায় আবারও মিতুকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গিয়ে শারিরীক সম্পর্কে মিলিত হয়। এবং শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও গোপনে ধারণ করে রাখে রাশেদুল।
কয়েকদিন আগে রাশেদুল তার ভাবির সহযোগিতায় রাশিদুল এর বাড়িতে নিয়ে যায় মিতুকে, এবং দুই রাত রাখেন। এবং সেখান জোর পূর্বক তরুনীর সাথে একাধিকরা শারীরিক সম্পর্ক করেন রাশেদুল।
নিহত কিশোরীর মা বলেন - আমার কলিজার টুকরো মেয়ে লোকলজ্জায় আমাদের কাছে আগে বলতে পারেনি। তবে মরার আগে বলে গেছে, তার সাথে রাশেদুল প্রেমের সম্পর্ক হয়। ঘুরতে গিয়ে রাশেদুল জোর করে খারাপ কাজ করেছে এবং সেই ভিডিও ধারণ করে রাখে,পরে ব্লাকমেল করে একাধিকবার ধর্ষন করেছে। রাশেদুল ব্লাকমেইল করে তার ভাবির সহযোগিতায় তাদের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং আমার মেয়েকে ২ রাত রেখে একাধিক ধর্ষন করে। এলাকার মাদবারদের কথায় মেয়েকে আমার বাড়িতে দিয়ে যায়। এবং কিছু টাকা দিতে চায়। আমরা টাকা নিতে অস্বীকার করায়, মেয়ের গোপন ভিডিও ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। আমার মেয়ে শারিরীক মানসিক অত্যাচার সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় =
প্রথমে মেয়েকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং পরে অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যায়।
আমি ধর্ষক রাশেদুলের ফাঁসি চাই। মা,ভাই, ভাবি,মামা,চাচা ও স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, রাশেদুলের পরিবার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল।. আমাদের একটাই দাবি, আমরা ধর্ষক রাসেদ ও তার পরবারের কঠিন বিচার মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি।
এদিকে মিতুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পারলে অভিযুক্ত রাশেদুল হাওলাদার, আনোয়ার হাওলাদারসহ তার পরিবারের লোকজন ঘর তালা মেরে পালিয়ে যায়।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার- এস আই সাকিব সালমান বলেন, আমি ভিকটিমের জবানবন্দি নেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ যাই। ভিকটিমের বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে মেয়েটির জীবনের শেষ মুহূর্তের যে কষ্ট হচ্ছিল তা নিজ চোখে দেখেছি, সেখানে রিদয় বিদারক ঘটনা ঘটে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আদিল হোসেন মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি জানান- তদন্ত চলছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।