মোঃ হেমায়েত হোসেন খান
নিউজ ডেস্ক মাদারীপুর।
মাদারীপুরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে শতাধিক ইটভাটা। এতে অধিকাংশ ইট-ভাটাই কৃষি জমি দখল করে গড়ে উঠছে। এতে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।
এতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশে। ভাটার আগ্রাসনে দিন দিন কমে যাচ্ছে চার ফসলি জমি। ফলে দিন দিন ফসল উৎপাদন কমছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ থাকলেও রহস্যজনক কারণে নির্বিকার সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইটভাটার মালিকরা। ইটভাটায় জ্বালানো হচ্ছে কাঠ,একাঠ ব্যবহারে করার কারনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির বৃক্ষ। এবং কৃষি জমি থেকে মাটি সংগ্রহ চলছে অবাধে। এতে পরিবেশ হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে ইটভাটা মালিকরা।
এবিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন একেবারেই নিবর দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর জেলায় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার অধিকাংশ ভাটাই অবৈধ। এসব ইটভাটার বেশির ভাগই স্থাপন করা হচ্ছে ফসলি জমি বা এর পাশ ঘেঁষে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩-এর ৮(১)(ঘ) তে বলা আছে কৃষিজমিতে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, ওই আইনের ৩(ক)তে বলা হয়েছে নির্ধারিত সীমারেখার (ফসলি জমি) এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা করা যাবে না। তাছাড়া বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ১৯৯৫ সংশোধিত আইন, ইটভাটা মালিকরা লঙ্ঘন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর হাই জানান ইটভাটা মালিকরা জোরপূর্বক তাদের জমি থেকে মাটি কেটে নিয়েছেন। এতে করে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে।
ঝাউদি ইউনিয়নের বাসিন্দা রাকিব হাসান বলেন প্রশাসনের সাথে ম্যানেজ ছাড়া কখনই এভাবে অবৈধ ইটেরভাটা চালানো সম্ভব না। আমারা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি এসব অবৈধ ইটেরভাটা বন্ধ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভুমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সন্তোষ চন্দ্র বলেন, ইটভাটার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আমরা লক্ষ করেছি, জেলায় প্রায় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটা পরিবেশের পাশাপাশি কৃষি জমির ক্ষতি করছে। এ অবস্থায় জেলার অবৈধ ইটভাটা বন্ধের বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাহ মো. শজিব বলেন ইটভাটা চালাতে কিছু বিধি নিষেধ মানতে হয় যারা এই বিধিনিষেধ মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে আমরা মাদারীপুরে দুটি ইটবাটা নষ্ট করে দিয়েছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।