নিউজ ডেস্ক প্রতিদিনের ক্রাইম-মদারীপুরঃ-মাদারীপুরে এক গৃহবধূ(২৪) এর গোপন ভিডিও ধারণ করে জোড়পূর্বক গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার শহরের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১০ ডিসেম্বর) ২০২৩ ইং তারিখ রাতে মাদারীপুর শহরের হরিকুমারিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন শহরের হরিকুমারিয়া এলাকার আজিজুল ব্যাপারীর ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী আহাদুল ব্যাপারী (২৪) ও পূর্ব রঘুরামপুর এলাকার সালাম ব্যাপারীর ছেলে রং মিস্ত্রি শামীম বেপারী (৩৫)। তারা দু'জনই একে অপরের বন্ধু।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্র জানাজায়, ভুক্তভোগী মাদারীপুর শহরের হরিকুমারিয়া এলাকায় স্বামী-সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন গৃহবধূ।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘরের লোকজন এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যায়। আড়াই বছরের ছেলেকে ঘুম পাড়িয়ে শৌচাগারে যান ওই গৃহবধূ। এ সময় বাড়িওয়ালা আজিজুল ব্যাপারীর ছেলে আহাদুল ব্যাপারী কৌশলে ঘরে প্রবেশ করেন।
পরে শৌচাগারে থাকা অবস্থায় গৃহবধুর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে আহাদুল ও তার বন্ধু শামীম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা।
একপর্যায়ে আহাদুল ও শামীম ওই গৃহবধূকে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেন। এতে রাজি না হলে তার সন্তানকে হত্যার হুমকি দিয়ে গৃহবধুকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে আহাদুল ও শামীমের বিরুদ্ধে।
এ সময় কৌশলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর রবিবার রাতে ফেসবুকে সেই ভিডিও ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে ঘরে প্রবেশ করে আহাদুল ও শামীম। আবারো শারীরিক সম্পর্ক করতে বললে কৌশলে গৃহবধূ বিষয়টি পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ কল করেন। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেন।
এসময় মুঠোফোনে ভিডিওধারণকৃত মোবইল ফোনটি জব্দ করা হয়। বর্তমানে আহত অবস্থায় ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।হাসপাতালে ওই গৃহবধূ বলেন, ‘আমাকে কয়েকদিন ধরেই কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল আহাদুল। আমি ওর প্রস্তাবে রাজি হইনি। তাই ওরা গোপনে আমার ঘরে ঢুকে ভিডিও করে ব্লাকমেইল করে। আমার সাথে যে অন্যায় ওরা দুজন করেছে আমি তাদের বিচার চাই।ওই গৃহবধূর স্বামী বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে ভয় দেখিয়ে আহাদুল ও শামীম পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। আইনের কাছে ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত আহাদুলের মা রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে বিদেশে থাকে। ওরে ফাঁসাতে চায় ওই নারী (ভুক্তভোগী গৃহবধূ)। ইতিপূর্বে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দাবিও করেছে। ওই টাকা না দেওয়ায় ষড়যন্ত্র করে আমার ছেলের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতাছে। আমিও এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, গৃহবধূর গোপন ভিডিও ধারণ করে গণধষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজেই মামলা বাদী। পুলিশ অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।’