মোঃ হেমায়েত হোসেন খান,নিউজ ডেস্ক মাদারীপুরঃ-
মাদারীপুরের রাজৈরের বাজিতপুর এলাকায় স্থানীয় যুবকদের ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সেলিম সরদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উন্নত জীবনের স্বপ্ন ও ইউরোপের আকর্ষণীয় গন্তব্যের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সেলিম সরদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন সহজ-সরল যুবকদের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে ইতালি নেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে আসছেন।
জানা যায় পরেশ মণ্ডল:পার্শ্ববর্তী সূতারকান্দি বাজিতপুর গ্রামের প্রফুল্ল মণ্ডলের ছেলে,পরেস মন্ডলের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা। নয়াকান্দি বাজিতপুর এলাকার সদয় হাওলাদারের ছেলে, উত্তম হাওলাদার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা, এছাড়া সদয় বৈরাগীর ছেলে নিখিল বৈরাগী:কাছ থেকেও ৭ লাখ টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ ছাড়াও এলাকার বেশ কয়েকজন যুবক ও তাদের পরিবার ভিটেমাটি বিক্রি করে, চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এবং জমানো শেষ সম্বলটুকু এই দালালের হাতে তুলে দিয়ে অসহায় জীবন যাপন করে আসছে ভুক্তভোগী পরিবার।
টাকা নেওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত সেলিম সরদার কাউকে ইতালি পাঠাতে পারেননি, আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি তালবাহানা শুরু করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। সর্বস্ব হারিয়ে বর্তমানে তাঁরা চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী রেনু মণ্ডল বলেন, "আমরা গরিব মানুষ। সেলিম সরদার আমার ছেলেকে ইতালি পাঠানোর লোভ দেখিয়ে ৭ লাখ টাকা নিয়েছে। কিন্তু সে আমার ছেলেকে না পাঠিয়ে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছে। আমরা টাকা চাইতে গেলে সে আমাদের বিভিন্ন হুমকি দেয়।"
মালঞ্চ বৈরাগী জানান, "আমার সামান্য কিছু জমি ছিল। সেই জমিও বিক্রি করে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর জন্য সেলিম সরদারকে ৭ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। সে আমার ছেলেকে ইতালি না পাঠিয়ে টাকা আত্মসাৎ করছে। আমরা টাকা চাইতে গেলে আমাদের মারধরের ভয়ভীতি দেখায়। আমি সরকারের কাছে এই মানবপাচারকারীর বিচার চাই।"
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সেলিম সরদার বলেন, "আমি বাজিতপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য নির্বাচন করার জন্য পোস্টার-ব্যানার ছাপিয়েছি। সেই কারণেই এলাকার কিছু চক্রান্তকারী আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মানবপাচারের অভিযোগ তুলছে।
আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে এর সঠিক বিচার চাই।"
অভিযুক্ত সেলিম সরদারের স্ত্রী বানেছা বেগম দাবি করেন, "আমাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে ইতালিতে থাকে এবং তারা প্রতি মাসে ৯ লাখ টাকা পাঠায়। আমাদের কোনো অভাব নেই, তাহলে আমরা কেন মানবপাচার করতে যাব? আমার স্বামী মেম্বার নির্বাচন করবে, এই কারণেই এলাকার কিছু চক্রান্তকারী আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মানবপাচারের অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে। আমরা এই ষড়যন্ত্রের বিচার চাই।"
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, এ ধরনের মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে সাধারণ মানুষের অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বে। অবিলম্বে সেলিম সরদারের কঠোর শাস্তি এবং তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।