মোঃ হেমায়েত হোসেন খান,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া মিলছে না কোনো সেবা—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সেবাপ্রত্যাশীরা। জমির নামজারি, খতিয়ান দেখানো,খসড়া পর্চা উত্তোলন, জমি সংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা খাজনা আদায়—প্রতিটি ধাপে টাকা না দিলে কাজ হয় না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তহসিলদার কবির মিয়ার বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কবির মিয়া নিজের নিয়ন্ত্রণে কয়েকজন দালাল রেখে সেবা প্রক্রিয়াকে পেছনে ঠেলে দিয়েছেন ঘুষ বাণিজ্যের সামনে।
এই ভূমি অফিসের পাশে দু’টি কম্পিউটার দোকান—সেখান থেকেই ভূমি সংক্রান্ত অনলাইন আবেদন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কম্পিউটার দোকানদারদের অনেকেই সরাসরি তহসিলদারের হয়ে অর্থ আদায় করেন। এই দোকানের এক মালিক রফিকুল ইসলাম, তহসিলদারের নিজ এলাকার বাসিন্দা।
জমির তদন্তে দুই পক্ষের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হয় বলে জানা যায়। যে পক্ষ বেশি দেয়, তদন্ত রিপোর্ট তার পক্ষেই যায়। নামজারি করতে হলে ‘চুক্তিতে’১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। কেউ চুক্তি না করলে তাকে দিনের পর দিন ঘুরতে হয় তসিলদার অফিসের বারান্দায়।
এবিষয়ে পাথুরিয়ারপার এলাকার ইলিয়াস হাওলাদার বলেন, কবির মিয়া গত তিন মাস আগে আমার জমি নামজারি পরিবর্তন করাতে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছে, এখন পর্যন্ত আমার জমির নামজারি পরিবর্তন করে দেয় নাই।
এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ লাল মিয়া হাওলাদার জানান, তার জমির নামজারির জন্য তহসিলদার ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি কষ্ট করে ৪ হাজার টাকা দিলে তা ফেরত না দিয়ে তাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে টাকা ফেরত দিয়ে কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তহসিলদার কবির মিয়া।
বালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের-৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হাওলাদার বলেন, এই তসিলদার কবির হোসেনকে মোটা অংকের ঘুষ না দিলে কোনো কাজ হয় না, আমি এই ঘুষখোর তশিলদারের বিচার চাই।
মঙ্গলবার (২৭ মে) তসিলদার কবির মিয়ার ঘুষ বাণিজ্যের সংবাদ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পরে (২৮ মে ) বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ ২৪ টেলিভিশন, দৈনিক বাংলাদেশের আলো,এশিয়ান টেলিভিশন,আর টিভি, সকালের সময়,দি ডেইলি ইভিনিং নিউজ পত্রিকার গনমাধ্যম কর্মীরা সরজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায় তসিল অফিসের সামনে সেবা নিতে আশা লোকের ভীড়, কিন্তু ভূমি তসিলদার কবির মিয়ার অফিস রুমে তালা ঝুলছে।
অফিস সহকারী দেলোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,স্যার কোথায় আমি জানি না শুনেছি অসুস্থ হয়েছে, স্যার আজকে অফিসে আসে নাই।
এ বিষয়ে তহসিলদার কবির মিয়ার মোবাইলে ফোন দিলে তিনি বলেন,সব অফিসেই এমন লেনদেন হয়, আমিও করি। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এসব করতে হয়। এসব নিয়ে লিখে কী হবে!
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফিন বলেন,বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি তসিলদার কবির হোসেনের নামে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ঘুষ বাণিজ্যের নিউজ প্রকাশিত হয়েছে,আমি দেখেছি, এবিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে তদন্ত করে তহসিলদার কবির মিয়াকে অপসারণ এবং ভূমি অফিসকে ঘুষমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।