আতাউর রহমান চঞ্চল, বরিশাল গৌরনদীঃ-
নেতৃত্বের আসনে কে বসবেন, আর সম্মানের জায়গা কার প্রাপ্য—প্রচলিত সেই ধারণায় যেন নতুন বার্তা দিলেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তারিকুল ইসলাম কাফী। নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক এক মতবিনিময় সভায় নিজে মঞ্চের সামনের আসন গ্রহণ না করে এলাকার প্রবীণ ও মুরুব্বিদের বসালেন মঞ্চে। আর নিজে দাঁড়ালেন পেছনে। তাঁর এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ উপস্থিত মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছে ব্যাপক আলোচনা।
সাধারণত নির্বাচনী সভা মানেই মঞ্চজুড়ে প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি, আর সামনে দর্শকসারিতে থাকেন সাধারণ মানুষ। তবে সেই প্রচলিত দৃশ্যের বাইরে গিয়ে কাফী যেন সম্মান ও শ্রদ্ধার এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন। শুধু মঞ্চের আসন ছেড়ে দেওয়াই নয়, বক্তব্য দেওয়ার সময়ও তিনি মঞ্চে অবস্থান না করে নেমে আসেন সাধারণ মানুষের মাঝে। উপস্থিত জনতার সঙ্গে সরাসরি মিশে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার এই ভঙ্গি সভায় তৈরি করে ভিন্নমাত্রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বাচনী প্রচারণার ব্যস্ত সময়ে এমন বিনয়ী আয়োজন এবং প্রবীণদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি উপস্থিত অনেকের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ওয়ার্ড পর্যায়ের একটি প্রস্তুতিমূলক সভায় সহস্রাধিক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মো. হাসেম শিকদার। স্বাগত বক্তব্য দেন সিনিয়র শিক্ষক আ. রাজ্জাক সরদার। এ সময় বক্তব্য রাখেন জিন্নাত আলী সরদার, বাবু সুনীল চন্দ্র হালদার, মো. কাশেম হাওলাদার, প্রাক্তন শিক্ষক বিপুল চন্দ্র বাড়ৈ, আ. রহিম হাওলাদার, মো. খলিল বিশ্বাস ও মো. হালিম সরদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা তারিকুল ইসলাম কাফীর এমন ব্যতিক্রমী ও বিনয়ী উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সব মিলিয়ে বার্থীর এই মতবিনিময় সভায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শুধু নির্বাচনী বক্তব্য নয়, বরং মঞ্চের আসন ছেড়ে প্রবীণদের সম্মান জানানোর একটি প্রতীকী উদ্যোগ। নির্বাচনের মাঠে এই উদ্যোগ ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে সভার মধ্য দিয়ে কাফী যে আলোচনার নতুন উপলক্ষ তৈরি করেছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।