মোমিন ইসলাম সরকার,দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পরও অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার পাশাপাশি ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের কাছ থেকেই টোল আদায়ের অভিযোগ করেছেন হাটে আসা লোকজন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) হাটে গিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতারা।
হাটে গরুপ্রতি সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা পর্যন্ত টোল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মালকাডাঙ্গা, বড়শশী ও টুনির হাট থেকে আসা তিনজন ক্রেতা জানান, তারা দুটি গরু কিনে প্রতিটির জন্য ৫৫০ টাকা করে টোল দিয়েছেন। তাদের দাবি, এর আগের কয়েকটি হাটে গরুপ্রতি ৬০০ টাকা পর্যন্ত টোল নেওয়া হলেও বর্তমানে আদায়ের ধরন ও পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এদিকে টেপ্রীগঞ্জ এলাকা থেকে আসা কয়েকজন গরু বিক্রেতার অভিযোগ, আগে ১০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হলেও বর্তমানে তাদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
হাটের নিয়ম অনুযায়ী ক্রেতার কাছ থেকেই টোল আদায়ের কথা থাকলেও ভাউলাগঞ্জ হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুই পক্ষের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ছাগলপ্রতি ৩০০ টাকা করে টোল আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
আগেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
এর আগে গত ৩০ আগস্ট অতিরিক্ত টোল আদায় এবং রশিদে আদায়কৃত টাকার পরিমাণ উল্লেখ না করার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২ সেপ্টেম্বর ভাউলাগঞ্জ হাটে অভিযান পরিচালনা করেন দেবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ বিন জিয়া।
অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর টোলের তালিকা প্রদর্শন না করা ও অতিরিক্ত টোল আদায়ের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৯ ও ৪০ ধারায় গরুর হাটে ১০ হাজার টাকা এবং ছাগলের হাটে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের সময় ইজারাদারকে রশিদে টোলের হার উল্লেখ করার পাশাপাশি হাটে দৃশ্যমান স্থানে টোলের তালিকা সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের পরও সেই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।
প্রশাসনের বক্তব্য
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক সীমা শারমিন বলেন, “আইন অমান্য করলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি ইউএনওর সঙ্গে কথা বলব।”
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাটের ইজারাদার ও চিলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, “কেউ মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত মাশুলই নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পরও একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় হাটের টোল আদায় ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।