মোমিন ইসলাম সরকার, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মালচন্ডি গোপাল বৈরাগী ঘাট এলাকার নদীর বালুচরে তরমুজ চাষ করে আশার আলো দেখছেন কৃষক খাদেমুল ইসলাম। তিনি প্রায় ৮ বিঘা জমিতে ১১০০টি গর্তে তরমুজের চাষ করেছেন। প্রতিটি গর্তে ৪টি করে বীজ রোপণ করা হয়েছে।
কৃষক খাদেমুল ইসলাম জানান, তিনি পাকিজা ও এসিআই কোম্পানির উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করেছেন। রোগবালাই দমনে নিয়মিত ডেনিম ফিট ও মোমেন্টো কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। এ চাষে তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৮ বিঘা জমি থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন তিনি।
নদীর বালুচরে চাষ হওয়ায় প্রতি ৩ থেকে ৪ দিন পরপর সেচ দিতে হচ্ছে। সার হিসেবে রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতি গর্তে প্রায় ৭৫০ গ্রাম করে ভার্মি কম্পোস্ট প্রয়োগ করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম চাষিদের মাঝে ১৫টি ফেরোমন ফাঁদ বিতরণ করেছেন, যা পোকামাকড় দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোরশেদ জানান, এ বছর দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। আগের বছরগুলোতে ভালো লাভ হওয়ায় এবার আরও বেশি জমিতে তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।
তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলে মূলত ‘স্যান্ডবার’ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে নদীর বালুময় জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে গর্ত করে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগের মাধ্যমে চারা রোপণ করা হয়। বালুমিশ্রিত জমিতে পানি জমে না এবং মাটির ভেতরে বাতাস চলাচল ভালো থাকায় তরমুজের শিকড় দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, চাষের শুরু থেকেই কৃষকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং রোগবালাই প্রতিরোধে সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।