নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইল মানবপাচার মামলার ২ জন আসামি আটক হয়েছে। সোমবার নড়াইল মানবপাচার দমন অপরাধ ট্রাইবুনাল আদালতে হাজির দিতে আসলে বিচারক তাদের আটকের নির্দেশ দেন।জানাগেছে, নড়াইল সদর উপজেলার চাকই গ্রামের গোলাম বিশ্বাসের ছেলে হুসাইন বিশ্বাস প্রতারিত হয়ে নড়াইল মানব পাচার দমন অপরাধ ট্রাইবুনাল আদালতে মামলা করে। মামলার দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত পুলিশ ইনভেষ্টিকেশন ( পিবি আই) কে তদন্ত দেন। তদন্ত শেষে (পিবি আই) উক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।প্রতিবেদনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আদালত এ আদেশ দেন।
মালার বাদি ও এজহার সূত্রে জানা গেছে, আসামি গন সংঘবদ্ধ, মানব পাচারকারী, শ্রম শোষনকারী,আর্থিক সুবিধা ভোগকারী, মানব পাচার অপরাধ সংগঠন কারী,জবর দস্তি বা দাসত্ব মূলোক শ্রমে বাধ্য কারী,অপরাধ সংগঠন প্ররোচনাকারী ব্যাক্তি হইতেছে।ইদ্রিসের ভাই খলিল শেখ ও রাসেল শেখ সৌদি আরব থাকেন। উলেখিত আসমিদের সাথে হুসাইনের সু সম্পর্ক থাকায় ইদ্রিস শেখ ও নাজমা বেগম হুসাইনকে বলেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিলে তোমাকে সৌদি আরব পাঠানো যাবে। সেখানে ভাল একটি কোম্পানিতে চাকরি হবে। প্রতি মাসে বাংলাদেশি টাকার ৪০ হাজার টাকা বেতন পাবে।
আসমিদের এহেন লোভনীয় প্ররোচনায় বাদি রাজি হয়ে যান। বাদি গরীব অসহায় হাওয়ায় ঘরের আসবাপত্র, ধার, লোন করে আসামিদের টাকা দেন। আসামী গণ নদত টাকা পেয়ে বাদির নিকট তার ১০ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ভোটার কার্ডের ফটোকপি ও আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট চান।আসামিদের কথা মত বাদি তাদের সব কিছু বুঝে দেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিমানবন্দরে দিয়ে আসামিদের সৌদি রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে রিশিফ করে সৌদি তার ভাড়া করা নির্জন একটি বাড়ি নিয়ে যান।সেখানে কোন কাজ দিতে পারেন না আসামিরা। তাকে নির্মম নির্যাতন করে পরিবারের নিকট মুক্তিপণ দাবি করেন।কিছু দিন গোপনে একটি হোটেলে কাজ করেন। এক পর্যায়ে সৌদি পুলিশের সহযোগিতায় বাদি বাংলাদেশে আসে।
পরবর্তীতে বাড়িতে ফিরে সাক্ষীদের সামনে সব কথা খুলে বললে এবং টাকা ফেরত চাইলে তাকে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ বিষয়ে ভূক্তভোগি পরিবার প্রতিকার চেয়ে নড়াইল মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইবুনালে মামলা করেন। উক্ত মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে আটক হয় ইদ্রিস শেখ ও নাজমা বেগম। জানা গেছে, ইদ্রিস শেখের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। নানাবিধ মামলায় জড়িত এই ইদ্রিস শেখ।কেউ যদি তার অপরাধ মূলোক কাজের প্রতিবাদ করে তাহলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেন তিনি। অহেতুক মিথ্যা হয়রানির মূলোক মামলার ভয়ে কেউ তার এহেন অপকর্মের প্রতিবাদ করে না।স্থানীয় বাসিন্দারা ইদ্রিস শেখ ও তার চক্রের সদস্যদের দৃষ্টান্ত মূলোক শাস্তি দাবি করেন।