মোমিন ইসলাম সরকার,দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ-
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বৃক্ষের চারা বিতরণ এবং পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে পার্বতীপুর মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার থেকে আনা ২৫০ কেজি রুই-কাতলা জাতের পোনা মাছ দেবীগঞ্জ উপজেলার ১০টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষের চারা বিতরণ ও পোনা মাছ অবমুক্ত করেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেবীগঞ্জ উপজেলায় ১২টি কবরস্থানে দুই হাজারের বেশি বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এসব চারা রোপণের মাধ্যমে কবরস্থানগুলোকে সবুজায়নের আওতায় আনা হবে। এর ফলে পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় যে পরিমাণ বৃক্ষ ও সবুজায়ন প্রয়োজন, বর্তমানে আমরা তার তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছি। বৃক্ষ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহের পাশাপাশি পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করে সবুজায়ন বাড়াতে হবে।
মাছের উৎপাদন প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, একসময় বলা হতো—‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদ-নদী ও জলাশয়ে মাছের প্রাচুর্য কমে যাচ্ছে। বিভিন্ন নদীতে বাঁধ ও সুইচগেট নির্মাণ এবং নাব্যতা হারানোর কারণে মাছের প্রজনন ও বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এক হাজার চারশর বেশি নদী রয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে ৫৪টি এবং পঞ্চগড়ে ৫০টি নদী রয়েছে। এসব নদীর অনেকগুলোই বর্তমানে নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকা ধীরে ধীরে শুষ্কতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’—এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আজ যে পোনা মাছগুলো অবমুক্ত করা হলো, ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সেগুলো বড় হয়ে স্থানীয় মানুষের খাদ্য ও জীবিকা নির্বাহে ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, মাছ মানুষের অন্যতম নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ। পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মাছ চাষ ও আহরণ স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নদী-জলাশয়গুলোকে মাছের প্রজনন ও বিচরণের উপযোগী করে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা, পঞ্চগড় জেলা মৎস্য বিভাগের উপপরিচালক ড. কে এম আব্দুল হালিম, দেবীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনী বসুনিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন (মো. তোবারক হ্যাপি), পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।