আতাউর রহমান চঞ্চল,গৌরনদী বরিশাল পতিনিধিঃ-বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পালরদী নদীর দুই তীর যেন দখলের মহোৎসব চলছে।দখলদাররা সেখানে পাকা-আধাপাঁকা স্থাপনা গড়ে তোলায় ছোট হয়ে আসছে নদীর আয়তন। এ নদী দখল ও দুষণের ফলে গৌরনদীতে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ পালরদী নদী অস্তিত্ব হারাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন তাদের উচ্ছেদের জন্য কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পালরদী নদীর নাব্যতা হ্রসের ও যাত্রী সংকটের কারণে ঢাকা-গৌরনদী নৌ-রুটের গত ৮ মাস ধরে দোতলা ও তিনতলা লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এতে ব্যবসায়ী ও লঞ্চযাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পৌর শহরের গৌরনদী বন্দর, চরগাধাতলী, টরকীর চর, নতুন টরকী, উপজেলার পিঙ্গলাকাঠি, হোসনাবাদ, কয়ারিয়া, পার্শ্ববর্তী কালকিনি উপজেলার কালকিনি বন্দর, চর পাঙ্গাসিয়া, ঠেঙ্গামারা, নতুন টরকী, শিকারমঙ্গল বাজার, চর বিভাগদি এলাকার ভেতর দিয়ে পুরানো পালরদী নদী প্রবাহিত রয়েছে। নদীর পাড়ের এসব বন্দর ও হাটবাজার এলাকায় নদী ভরাট করে প্রভাবশালীরা বসত ঘর, দোকানপাট, কল কারখানা গড়ে তুলে নদীর বিস্তীর্ন এলাকা দখল করে ফেলেছে।
অভিযোগ রয়েছে, দখল প্রক্রিয়ার সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ও বিএনপির কতিপয় নেতাসহ এলাকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা জড়িত রয়েছে। তারা গৌরনদী বন্দর, টরকীরচর, নতুন টরকী, চরগাদাতলী, পিঙ্গলাকাঠী, হোসনাবাদ, কয়ারিয়া, কালকিনি বন্দর, চর পাঙ্গাসিয়া এলাকায় পালরদী নদীর দুই তীর ও নদীর মধ্যে দখল করে কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছে। ওইসব এলাকায় ৫-৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পালরদী নদীর দুই তীরে ৫ থেকে ৬শ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে প্রভাবশালীরা। তারা পাকা ভবন নির্মাণ করে ডাল মিল, রাইস মিল, স,মিল, অয়েল মিল,পাকা-আধাপাকা দোকান ঘর নির্মাণ করেছে।
পালরদী নদীর পশ্চিম তীরে গৌরনদী বন্দর, টরকীরচর, কালকিনি বন্দর অবস্থিত। পূর্ব তীরে নতুন টরকীর হাট অবস্থিত। টরকীরচর এলাকায় পালরদী নদীর তীর ও নদীর মধ্যে বিস্তীর্ন এলাকা দখল করে অর্ধশতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি গড়ে তুলেছেন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। গৌরনদী বন্দর এলাকায় ২ শতাধিক দখলদার পাকা-আধাপাকা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে। কালকিনি উপজেলার নতুন টরকীরহাট জুরগা হাট, গৌরনদী উপজেলার পিঙ্গলাকাঠী বাজার, হোসনাবাদ বাজার এলাকার নদীর তীর দখল করে প্রভাবশালীরা আড়াই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, নাব্যতা হারিয়ে এক সময়ের খরতা গৌরনদী উপজেলার পালরদী নদী এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে।
পালরদী নদীর নাব্যতা হ্রাসের ও যাত্রী সংকটের কারণে ঢাকা-গৌরনদী নৌ-রুটের গত ৮ মাস ধরে দোতলা ও তিনতলা লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এমনকি, গৌরনদী ও টরকী বন্দর লঞ্চঘাটের পল্টুনে এখন বড় কোন নৌযান আসতে পারছে না। গত ২০/২৫ বছর ধরেই শুকনো মৌসূমে নদীর কোথাও কোথাও হাটু পানি থাকে। ফলে গৌরনদী ও টরকী বব্দর, কসবা গো-হাট, শরিকল হাট, মাহিলাড়া হাট, বাটাজোর হাট, কালকিনি বন্দর, আগৈলঝাড়া বন্দরের ব্যবসায়ীরা গবাদী পশু ও বিভিন্ন মালামাল আনা নেয়ার ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগে শিকার হচ্ছে। আগে গৌরনদী-ঢাকা ও গৌরনদী-নারায়নগঞ্জ নৌ-রুটে দৈনিক ৪টি লঞ্চ আসা-যাওয়া করতো। কয়েক বছর আগে গৌরনদীর হোসনাবাদ বাজার থেকে নদী খনন করেছিল নৌপরিবহন অধিদপ্তর। ময়লা আবর্জনা ফেলে নদী দুষন করা হচ্ছে। সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করছেন স্থানীয় প্রশাসন। এ কারণে জনসাধারনের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আবদুল্লাহ্ খান বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। নকশা অনুযায়ী নদীর প্রস্থ মেপে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। নদী দখল করে যদি কেউ নদীর তীর ও ভেতরে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলে অবশ্যই তা উচ্ছেদ করা হবে। নদী দখল ও দুষনকারীদের কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।