বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ-
দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটিয়ে জমি ফিরে পাওয়ার পর মানবিক ও ধর্মীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার হাফেজ মোহাম্মদ রাসেল হুজুর। উদ্ধার হওয়া ৮ কাঠা জমির মধ্য থেকে ৭ শতাংশ সম্পত্তি স্থানীয় একটি মসজিদের নামে দান করে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে ওই জমিতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা পাঞ্জেগানা নামাজ আদায় করছেন।
উপজেলার ৭ নম্বর তেতলা মৌজায় দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। তেতলা মৌজার এসএ ১২২ খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক চাঁদবরুর কাছ থেকে ক্রয়সূত্রে শাহসের আলী ও তাঁর ছেলেরা জমিটির স্বত্ব লাভ করেন। পরবর্তীতে তাঁদের কাছ থেকে দুটি খণ্ড দলিলের মাধ্যমে মোট সাড়ে ১২ কাঠা জমির মালিক হন মো. ওয়াজেদ আলী মিয়া, পিতা নবীর উদ্দিন ঘরামী।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য শাহে আলম তালুকদারের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে স্থানীয় হুমায়ুন কবির (গাজী) মিথ্যা মামলা দিয়ে ওই পরিবারের সাড়ে ১২ কাঠা জমির মধ্য থেকে ৮ কাঠা জমি দখলে নেন।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর ওয়াজেদ আলী মিয়ার পরিবার ও হাফেজ মোহাম্মদ রাসেল হুজুর জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নেন। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের নজরে এলে তাঁদের মধ্যস্থতায় শেরেবাংলা বাজারে উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষের জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং সরেজমিনে জমি পরিমাপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচজন অভিজ্ঞ সার্ভেয়ার—আউয়ার নিবাসী মো. সাইদুর রহমান, তেতলা নিবাসী বিজয় মহুরী, নান্দুহার নিবাসী মহারাজ, শুটিয়াকাঠী নিবাসী জসিম এবং বাইশারী নিবাসী মো. আঃ খালেক—যৌথভাবে জমিটি জরিপ করেন।
জরিপ ও সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৭ সেপ্টেম্বর (২ আশ্বিন) বৃহস্পতিবার উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সরেজমিনে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় হুমায়ুন কবিরের মুরগির ফার্মের একটি অংশ রাসেল হুজুরের জমির মধ্যে পড়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিবেচনায় পশ্চিম সীমানা থেকে ৮ ফুট চওড়া করে উত্তর সীমানা পর্যন্ত জায়গা তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দক্ষিণ সীমানা রাস্তার অর্ধেক পর্যন্ত সমন্বয় করে রাসেল হুজুরকে তাঁর ৮ কাঠা জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন পর জমির দখল ফিরে পাওয়ার পরও পুরো সম্পত্তি ব্যক্তিগত ব্যবহারে না রেখে এর একটি অংশ মসজিদের জন্য দান করে দেন হাফেজ মোহাম্মদ রাসেল হুজুর। তাঁর দান করা ৭ শতাংশ জমিতে বর্তমানে স্থানীয় মুসল্লিরা নিয়মিত পাঞ্জেগানা নামাজ আদায় করছেন।
জমি ফিরে পাওয়ার পর এমন একটি ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে সম্পত্তি দান করায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি প্রশংসা পেয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান এবং জমি বুঝে পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।