হাসান বিশ্বাস, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
যশোরের কুশখালী গ্রামের কৃতি সন্তান ডা. আলিম চৌধুরী একাধারে ছিলেন একজন খ্যাতনামা চক্ষু বিশেষজ্ঞ,গরীব দুঃখী মানুষের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং পরবর্তীতে লন্ডন থেকে এফআরসিএস (FRCS) ডিগ্রি অর্জনের পরও তিনি সাধারণ মানুষের সেবাকেই জীবনের মূল ব্রত হিসেবে বেছে নেন। গরিব ও দুস্থ রোগীদের সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় চিকিৎসা প্রদান করতেন এবং মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য।
পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন একজন সচেতন ও সক্রিয় বুদ্ধিজীবী। কিন্তু বিজয়ের ঠিক প্রাক্কালে ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাঁকে অপহরণ করে।
পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর রায়েরবাজার বধ্যভূমির ইটের ভাটার পাশ থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দেশের স্বাধীনতা ও মানবসেবায় তাঁর এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। তাঁর এই মহান স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শহীদ ডা. আলিম চৌধুরী স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্মারক। প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে পুরো জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে তাঁর এই অবদানকে স্মরণ করেন।